
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
খাগড়াছড়িতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবির প্রেক্ষাপটে চলছে আধা বেলার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ। নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা গুলি ছুড়েছেন। তবে এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউপিডিএফ কর্তৃপক্ষ।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সাজেকে আটকে পড়া দুই হাজার নয়শ তেত্রিশ জন পর্যটককে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে ফিরিয়ে আনা হয়। ফেরার পথে অবরোধ ও গোলাগুলির আকস্মিক ঘটনায় পর্যটকদের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, সাজেকবাসীর উত্থাপিত দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা। সংগঠনটি এই শান্তিপূর্ণ অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানায়।
পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোরবেলা থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারী কর্মীরা। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই অবরোধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পর্যটন খাতে। পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কর্মসূচির জেরে হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ এবং পর্যটকবাহী পরিবহনের অসংখ্য বুকিং বাতিল হয়েছে। ফলে কটেজ মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সব ধরনের যানবাহনকে অবরোধের আওতায় রাখা হয়নি। এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহের যান এবং সংবাদকর্মীদের বহনকারী গাড়িগুলো।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাগড়াছড়ির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, সাজেক পর্যটনকেন্দ্রটি দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সূত্র: আজকের পত্রিকা