
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর সংলগ্ন গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি যানবাহনের আকস্মিক ধাক্কায় বাবা এবং তাঁর একমাত্র সন্তান ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত শনিবার ভোরের দিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয় গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকার ব্যস্ততম গাজীপুরা নামক স্থানে।
নিহত দুই ব্যক্তির সঠিক পরিচয় ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে এবং তাঁরা সম্পর্কে পিতা ও পুত্র। প্রাণ হারানো বাবা হলেন পঞ্চাশ বছর বয়সী তপন চন্দ্র দাস এবং তাঁর তরুণ ছেলে বিশ বছর বয়সী লিখন চন্দ্র দাস। তাঁদের আসল বাড়ি দূরবর্তী জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত কৈবর্তপাড়া গ্রামে। তবে জীবিকা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার অন্তর্গত গাজীপুরা ২৭ নম্বর চৌরাস্তা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়েছেন স্থানীয় টঙ্গী পূর্ব থানার সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত সুপরিচিত কুটুমবাড়ি হোটেলের সংলগ্ন মহাসড়কের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে অজ্ঞাত কোনো গাড়ির শক্তিশালী ধাক্কায় ওই পিতা ও পুত্র গুরুতর আঘাত পেয়ে মহাসড়কের ওপর লুটিয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্থানীয় টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তরুণ লিখন চন্দ্র দাসকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গুরুতর আহত পিতা তপন চন্দ্র দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর মর্যাদাপূর্ণ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তাঁরও মৃত্যু হয়।
বর্তমানে পিতা ও পুত্রের মরদেহ দুটি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মর্গে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মৃতদেহগুলো নিয়ে যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরপরই তাদের মৃতদেহগুলো পরিবারের শোকার্ত স্বজনদের কাছে যথাযথ নিয়ম মেনে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।