
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বৃষ্টির বাধার কারণে চার ম্যাচের একটির প্রথম দিনে টস পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। বাকি তিন ম্যাচের দুটিতে এসেছে সেঞ্চুরি, আর একটিতে রংপুরের সংগ্রহ বেশ মজবুত। জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডের প্রথম দিনেই ব্যাটাররা নিজেদের কারিশমা দেখিয়েছেন। মোহাম্মদ নাঈম ও মাহফিজুল ইসলাম উভয়েই দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়েছেন। দিন শেষে দুজনই দেড় শ ছাড়িয়ে অপরাজিত আছেন এবং তাঁদের সামনে এখন ডাবল সেঞ্চুরির চমৎকার সুযোগ রয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ঢাকা দল। তবে তাদের শুরুর বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়নি। মাত্র আটাশি রান তুলতেই তারা তিনটি উইকেট হারিয়ে বেশ বিপদে পড়েছিল। সেই প্রাথমিক চাপ দারুণভাবে সামাল দেন মোহাম্মদ নাঈম। রাজশাহীর বোলারদের মোকাবিলা করে তিনি অসাধারণ এক সেঞ্চুরি উপহার দেন। দিন শেষে ঢাকার মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় তিন উইকেটে দুইশো তিরানব্বই রান।
এই ইনিংসে নাঈমের ব্যাটিং ছিল বেশ ছান্দসিক ও নিয়ন্ত্রিত। তিনি মাত্র বিরাশি বলে অর্ধশতক হাঁকান, একশো তেতাল্লিশ বলে শতক স্পর্শ করেন এবং দুইশো ষোলো বলে দেড় শ রান পূর্ণ করেন। এটি তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক। দিন শেষে তিনি দুইশো বিরাশি বলে চৌদ্দটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে একশো একাত্তর রান করে উইকেটে টিকে আছেন।
জাতীয় লিগে ফিরে এসেই মাহফিজুল ইসলাম নিজের ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহ দল। মাহফিজুলের নান্দনিক ও অপরাজিত একশো ছাপান্ন রানের সুবাদে দিন শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় চার উইকেটে দুইশো নিরানব্বই রান।
জাতীয় লিগের পূর্ববর্তী ছয় ইনিংসে তিনি দুটি অর্ধশতক ও দুটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশে খেলার সুযোগ পান। যদিও সেখানে তিনি সুবিধা করতে পারেননি এবং মাত্র আট বল খেলে চার রান করেই সাজঘরে ফেরেন। মাত্র একদিনের ব্যবধানে জাতীয় লিগে নেমেই তিনি শতক হাঁকিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেন। চলমান প্রতিযোগিতায় এটি তাঁর তৃতীয় এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চতুর্থ শতক। চট্টগ্রামের পক্ষে হাসান মুরাদ একাই তিনটি উইকেট শিকার করেছেন।
সিলেট একাডেমি মাঠে বরিশালের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেমে রংপুর দলও প্রথম দিন শেষে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই ম্যাচে কোনো ব্যাটার শতক পাননি ঠিকই, তবে মিম মোসাদ্দেক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে দলটি পাঁচ উইকেটে তিনশো কুড়ি রান সংগ্রহ করেছে।
দিন শেষে দলের পক্ষে মামুন একষট্টি এবং আলাউদ্দীন বাবু ছেচল্লিশ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। তাঁরা দুজনেই কাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন। অন্যদিকে কক্সবাজারে সিলেট ও খুলনা ম্যাচের প্রথম দিন আবহাওয়ার অবনতি ঘটায় টসই সম্ভব হয়নি। ফলে রাউন্ডের এই ম্যাচটিতে কোনো বল মাঠে গড়ায়নি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।