
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
একাত্তরের যুদ্ধাহত গেজেটেড বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ শেষবিদায়ের সময় স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বাধার মুখে পড়ে। এই ঘটনার পর পুলিশ লাইনসের ভেতরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মানিক পশারী আত্মগোপনে ছিলেন। জীবনের শেষ সময়গুলোতে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একটি বাড়িতে মেয়ের জামাইয়ের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। গত প্রায় দুই মাস ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়া এলাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর পর পরিবারের লোকজন তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসেন। দুপুর ১২টার দিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় জামায়াত নেতারা তীব্র বাধা সৃষ্টি করেন।
নিহত মুক্তিযোদ্ধার জামাতা ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সকাল ১০টার দিকে তাঁর শ্বশুর মারা যাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা মরদেহ নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতিতে ইউএনও তাঁদের গার্ড অব অনারের ব্যবস্থার কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করান।
ফারুক হোসেন আরও উল্লেখ করেন, একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর শ্বশুরের মরদেহটি অত্যন্ত অবহেলার শিকার হয়। কোনো ধরনের বরফ বা চা পাতা ছাড়াই একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে মরদেহ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পুলিশ লাইনস চত্বরের ভেতরে কোনোমতে তাঁকে শেষ গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সম্মাননা জানানোর পর পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলেও দাফনের বিষয়ে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ফারুক হোসেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, দাফন সম্পন্ন করার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের দায়িত্ব নেওয়া হয়নি, যার ফলে পুরো পরিবার অত্যন্ত চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা