
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দেহের কাঠামো দৃঢ় ও শক্তিশালী রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং আমিষ—এই তিন উপাদানের ভূমিকা অত্যন্ত বেশি। ফসফেটের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম হলো কঙ্কালের কাঠামোর মূল খনিজ উপাদান। অন্যদিকে আমিষ বা প্রোটিন অণুর কাজ হলো কোষগুলোকে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখা। আবার পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি উপস্থিত না থাকলে শরীর যথাযথভাবে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে না।
হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। এই রোগ বাসা বাঁধলে সামান্য आঘাত লাগলেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং যেসব নারীর ঋতুব্রত বা মেনোপজ হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুকি অনেক বেশি থাকে। তাই মারাত্মক এই সমস্যা প্রতিরোধ করতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অবশ্যই উল্লেখিত তিন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখা আবশ্যক।
কঙ্কালের সঠিক গঠন ও শক্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের জুড়ি মেলা ভার। মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার জোগান দিতে গরুর দুধ, টক দই, কাঁটাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ, তিল এবং নানা রকমের সবুজ শাকসবজি অত্যন্ত কার্যকর উৎস। এসব খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সংগ্রহ করে থাকে।
মানবদেহে ক্যালসিয়াম সঠিকভাবে শোষিত হওয়ার কাজটি সহজ করে দেয় ভিটামিন ডি। প্রাকৃতিক এই উপাদানের প্রধান উৎস হলো মিষ্টি রোদ বা সূর্যের আলো, বিভিন্ন ধরনের তৈলাক্ত মাছ এবং ডিমের কুসুম। শরীরে যদি এই উপাদানের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট বা পরিপূরক গ্রহণ করা যেতে পারে।
হাড় ও পেশির সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আমিষ বা প্রোটিন খাওয়া জরুরি। এই পুষ্টির চাহিদা মেটাতে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় মাছ, ডিম, তরল বা গুঁড়ো দুধ, সোনালি বা দেশি মুরগির মাংস, ডাল এবং ছোলা রাখতে হবে। এছাড়া কাঠবাদাম ও তিলের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশি আমিষও রয়েছে।
দিনাজপুরের রাইয়ান হেলথকেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার হাড়ের সুরক্ষায় এসব পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।