
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফিলিস্তিনি দুই বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর এবং হামলাকারীরাও প্রাণ হারানোর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তীব্র এই সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় পুরো অঞ্চলটিতে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি সরকারপ্রধান। এর ফলে অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে ব্যাপক তল্লাশি ও দমনপীড়ন শুরু করেছে দখলদার সামরিক বাহিনী।
হেবরন শহরের স্থানীয় মেয়র আল-জাবারি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে সেখানকার বাসিন্দারা চরম যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বিধায় কেউ শহরে ঢুকতে বা বাইরে যেতে পারছেন না।
সংবাদ সংগ্রহের সময় ফারশ আল-হাওয়া চেকপোস্টের কাছে পেশাগত দায়িত্বে থাকা সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা চালায় সেনারা। বুলডোজার দিয়ে সাধারণ মানুষের বাড়ি ও গাড়ি ধ্বংস করার দৃশ্য ধারণকালে সাংবাদিকদের ওপর শব্দবোমা নিক্ষেপ করা হয়।
শনিবার দিনভর অবরুদ্ধ অঞ্চলের ন্যূনতম পনেরোটি ভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে আগ্রাসী সামরিক দলগুলো। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এসব লক্ষ্যস্থলের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের জেনিন ও নাবলুস শহর অন্তর্ভুক্তি রয়েছে।
এছাড়া মধ্যাঞ্চলের রামাল্লা, আল-বিরেহ, বিরজেইত এবং পূর্ব জেরুজালেম এলাকার পাশাপাশি দক্ষিণের বেথলেহেম শহরেও এই সামরিক তাণ্ডব চালানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান এসব ধরপাকড়ের অংশ হিসেবে প্রায় সত্তর জন ফিলিস্তিনি নাগরিককে বন্দি করেছে সেনারা।
সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় জেনিন অঞ্চলের বিভিন্ন জনপদে হামলা চালিয়ে দুজনকে আহত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব অংশে পৃথক দুটি হামলায় আরও দুজন জখম হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
রোববার ভোরে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক বিবৃতিতে জানায়, হেবরনের উত্তরাংশস্থ হালহুল এলাকায় সেনাদের নিক্ষিপ্ত টিয়ারগেটে অসুস্থ হয়ে পড়েন নয়জন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনই শিশু হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে রোববারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবাবার পর্যন্ত ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার স্থগিত রাখা হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওইদিন পশ্চিম তীরের সব সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা