
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিশেষ প্রকৌশল প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে গঠিত একটি তরুণ দল।
দলটির দলনেতা হিসেবে কাজ করছেন সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র শাফি বিন সুলতান। তাঁর সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী সাবিক বিন সুলতান।
যন্ত্রপাতি দেখভাল ও চালকের ভূমিকা নিয়েছেন এ-লেভেলের পুথিগত বিদ্যায় থাকা সাফওয়ান সাদাদ। তিনি ছেলেদের চালক হিসেবেও লড়বেন।
সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ছাত্রী মারিয়া সুলতান মেয়েদের চালক হিসেবে কাজ করবেন। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অরণ্য আবির খান প্রাপ্য দেখছেন নিরাপত্তার দিক ও কাগজপত্রের হিসাব।
শিক্ষার্থীদের এই দলকে পথ দেখাচ্ছেন সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সুদেব চন্দ্র পাল। তিনি প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বেও যুক্ত আছেন।
যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক রাখতে কারিগরি দিক থেকে সাহায্য করছেন ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশલ বিভাগের শিক্ষক আবু এম ফুয়াদ আলহাসান।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থার এই আয়োজনটি মূলত বিশ্বজুড়ে পড়ুয়াদের জন্য গড়া একটি প্রকৌশলগত প্রতিযোগিতা। ভিনগ্রহের রুক্ষ ও কঠিন মাটির নমুনায় তৈরি পথে রোভার গাড়ি চালাতে হয় এতে।
গাড়িগুলোর পরিকল্পনা করা, সেগুলোর কাঠামো দাঁড় করানো, পরীক্ষা চালানো এবং মাঠে নামানোর পুরো কাজটি প্রতিযোগীদেরই সম্পন্ন করতে হয়।
আসন্ন দুই হাজার সতেরো সালের দূর নিয়ন্ত্রিত গাড়ির এই লড়াইয়ে মোট দশটি ভিন্ন রকমের বাধা অতিক্রম করার নিয়ম রাখা হয়েছে।
এসবের ভেতরে মাটির ফাটল, বিশাল আকৃতির পাথর, চাঁদের ঢিলেঢালা ধূলিকণা এবং খাদের মতো কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা পার হতে হবে।
নির্ধারিত পথটুকু পাড়ি দিতে হবে ঠিক বারো মিনিটের মধ্যে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বেতার বার্তার মাধ্যমে দেওয়া নির্দেশ মেনে ছবি তুলতে হবে।
এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সাহায্যে দূরত্ব মাপা ও ছবি ধারণের কাজ সফলভাবে শেষ করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে দলগুলোর সামনে।
চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখানোর আগে প্রতিযোগীদের বাধ্যতামূলকভাবে মোট চারটি বাছাই ধাপ সফলভাবে পার করতে হয়।
নকশা যাচাই, কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি, অভিযানের প্রস্তুতি এবং ভ্রমণের প্রস্তুতি নামের এই ধাপগুলোতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়।
প্রতিটি ধাপের জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিট ধরে নিজেদের প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করতে হয়।
উপস্থাপন পর্ব শেষে মার্কিন মহাকাশ সংস্থার অভিজ্ঞ গবেষকদের প্যানেল থেকে করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হয় পনেরো মিনিট ধরে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা