
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মানবদেহের অত্যন্ত মূল্যবান ও অতুলনীয় এক নেয়ামত হলো মহান আল্লাহর দান চোখ। এই অমূল্য অঙ্গটির যখন অনিয়ন্ত্রিত ও অবাধ ব্যবহার করা হয়, তখন তা মানুষকে বিভিন্ন ধরনের পাপ কাজের দিকে ধাবিত করে। এই কারণে নিজের দৃষ্টিকে সুরক্ষিত রাখা প্রতিটি মুমিন বান্দার অত্যন্ত মৌলিক ইমানি এবং নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।
পবিত্র আল-কোরআনে দৃষ্টি সংযত রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও জোরালো নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন যে, মুমিন পুরুষদের যেন বলে দেওয়া হয় তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে চলে। পবিত্র এই আয়াতে আরও বলা হয়েছে যে, এই পদ্ধতিটি তাদের নিজেদের জন্য অধিকতর পবিত্রতার উপায়।
পবিত্র কোরআনের ঠিক পরের আয়াতে নারী সমাজের প্রতিও একই ধরনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে মুমিন নারীদেরকেও স্পষ্টভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের অর্জিত পবিত্রতা যথাযথভাবে রক্ষা করে চলে। পুরুষদের ন্যায় নারীদের ক্ষেত্রেও এই বিধানটি সমানভাবে প্রযোজ্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
Hadith বা হাদিসের বাণীতেও এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে। প্রিয়নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো ধরনের কামনার বশবর্তী হয়ে পরনারী কিংবা পরপুরুষের দিকে তাকানোর মতো বিষয়টিকে অত্যন্ত কঠোরভাবে ‘চোখের জিনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত হাদিসটিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে, চোখের জিনা হলো মূলত (কামনাপূর্ণ) দৃষ্টি। অর্থাৎ মানুষের চোখের মাধ্যমেই সর্বપ્રथम প্ররোচনা বা কুপ্রবৃত্তি মনে প্রবেশ করে, যা পরবর্তীতে মানুষকে আরও অনেক বেশি ভয়াবহ ও বড় ধরনের পাপাচারের দিকে পরিচালিত করে থাকে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা