
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোর সন্দেহে স্থানীয় লোকজনের বিক্ষুব্ধ গণপিটুনির শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে অটোরিকশার মালিক সোহেল জানান, গভীর রাতে হঠাৎ তার ছোট মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। তিনি তখন সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে অজ্ঞাত চোরেরা অটোরিকশা রাখার ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
চোরেরা প্রথমে তাদের শোবার ঘরের দরজায় দুবার কড়া নাড়ে বলে জানান সোহেল। বিষয়টি তার বুঝতে কিছুটা সময় লেগেছিল এবং তিনি ভেবেছিলেন সন্তানকে শান্ত করে বিছানা ছেড়ে উঠবেন। এর মাত্র দুই মিনিট পর তার স্ত্রী চিৎকার করে জানান যে তাদের অটোরিকশাটি বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্ত্রীর কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই বিছানা থেকে দ্রুত লাফ দিয়ে উঠে বারান্দা পেরিয়ে অটোরিকশার পেছনের অংশে টান ধরান মালিক সোহেল। চোরেরা তাকেসহ অটোরিকশাটি দ্রুতগতিতে টেনে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালায়, যা তাকে আরও বিপদে ফেলে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি শেষ পর্যন্ত অটোরিকশাটি ছেড়ে দিয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার সেই আর্তনাদ শুনে স্থানীয় মসজিদের লোকজন দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং মাটিতে পড়ে থাকা সোহেলকে দেখতে পান, যার হাঁটু ঘষে চামড়া উঠে গিয়েছিল।
এরপর তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা দেওয়া হয় যে চোরেরা অটোরিকশাটি নিয়ে উত্তর দিকের পথ ধরে পালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীকে দ্রুত তাদের আটকানোর জন্য মাইক থেকে আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তীতে সোহেল জানতে পারেন যে তার নিজ বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি ক্যানেল বা খালের কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনির মুখে পড়ে ওই দুজন মারা গেছেন।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর পর নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পরে তা থানায় নিয়ে আসে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা