
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ব্রিটেনে সাইবার হামলা এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে हाल ہی में ‘বি রেডি’ বা ‘প্রস্তুত থাকুন’ শীর্ষক একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরুর মাত্র কয়েকদিন পর এই সতর্কবার্তাটি উচ্চারিত হয়।
জরুরি এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ঘরে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাদ্যপণ্য, বোতলজাত সুপেয় পানি, কম্বল এবং রেডিও সংগ্রহে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আকস্মিক কোনো কারণে সুপারমার্কেটে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হলেও অন্তত তিন দিন যেন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হয়, সে প্রস্তুতি দেশের প্রতিটি পরিবারের থাকা উচিত।
বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরপরই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। মূলত দুটি ভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিষ্ঠান পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার ভেতর অত্যন্ত গুরুতর একটি সাইবার নিরাপত্তার ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পরিচালনার কাজেই এই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এদিকে এই সতর্কবার্তা জারির ঠিক আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বিশিষ্ট দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়। এতে জানানো হয় যে, ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেব্লগুলোর ওপর গোপনে নজরদারি চালানোর উদ্দেশ্যে রাশিয়া সাগরে মাছ ধরার ট্রলার মোতায়েন করেছে। ব্রিটিশ মন্ত্রীরা পরবর্তীতে এই মর্মে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলের অবকাঠামোগুলোকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে মস্কো সুকৌশলে ‘বাণিজ্যিক মধ্যস্থতাকারী’ ব্যবহার করে আসছে।
এই ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। সমুদ্রতলের কেব্ল নেটওয়ার্কে নাশকতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়ার কঠোর বিধান চালুর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্ট্রিটিং অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে, ব্রিটেনের শত্রুরা অতীতেও দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে এবং এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, শত্রুপক্ষের সেই ক্ষতি সাধনের সামর্থ্য বা সক্ষমতা বর্তমানে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পরিবর্তিত হয়েছে। তাঁর সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রুপক্ষের সামরিক শক্তি এবং যুদ্ধ পরিচালনার উপযোগী সামগ্রিক অর্থনীতি এমন এক অনন্য পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে, যেখান থেকে তারা সরাসরি ব্রিটেনে বিপজ্জনক হামলা চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে।
ভবিষ্যতের এই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে, তাদের হাতে বর্তমানে ঠিক এক হাজার দিনের মতো সময় অবশিষ্ট রয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো সফলভাবে অর্জন করতে হবে। মিত্র দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো যুদ্ধ মোকাবিলা করতে এবং সেই যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, তাদের এই অভীষ্ট লক্ষ্য শতভাগ সফলতার সঙ্গেই বাস্তবায়িত হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা