
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবল ময়দানে চালু থাকা বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির মুখে পড়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সংক্রান্ত আইনটি প্রয়োগ করেই তাঁকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও ঠিক কোন নির্দিষ্ট অপরাধের কারণে তাঁকে এমন কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হলো, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা জানানো হয়নি।
মাঠে এই দুই ফুটবলারের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সূত্রপাত দ্বিতীয়ার্ধে নয়, বরং ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলায় ঘটেছিল। খেলা বন্ধ থাকার সময় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাহিয়া দলের এই মিডফিল্ডার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সৌজন্যমূলকভাবে হাত মেলাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু নেইমার বল তাঁর দিকে ছুঁড়ে মারেন।
ওই ঘটনার পর নেইমারের মুখ থেকে একাধিক অপমানজনক শব্দ শুনতে হয়েছে বলে দাবি করেন বাহিয়া দলের ওই ফুটবলার। নেস্তর আরও যোগ করেন যে তাঁর পরিবার তাঁকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বড় করেছে এবং তিনি নিজের অতীত ও জন্মস্থান নিয়ে গর্বিত। ইতাকুয়েরা শহরে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার কঠিন পথ পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন।
বাহিয়ার জার্সি গায়ে জড়াতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত গর্বিত মনে করেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর মতে, নেইমার তাঁকে যা যা বলেছেন, তা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় এবং বাহিয়া ক্লাবের পোশাকের প্রতি প্রকাশ্য অবমাননা। মাঠে নেইমারের এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
খেলোয়াড় হিসেবে নেইমারের খ্যাতি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও ব্যক্তিগত আচরণের মানদণ্ডে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করেন নেস্তর। তাঁর মতে, বহু উদীয়মান তরুণ ও সমর্থকের কাছে আদর্শ হলেও সেদিন নিজের সেই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলীয় তারকা।
নেইমার ঠিক কী ধরনের অশ্লীল বা কটূক্তি করেছিলেন, সে বিষয়ে সংবাদকর্মীদের তরফ থেকে পুনরায় জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে মাঠে ছোট ছোট শিশুরা খেলা উপভোগ করছে—এই কথাটি মাথায় রেখে সেই আক্রমণাত্মক বক্তব্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে রাজি হননি বাহিয়া দলের মিডফিল্ডার।
নেস্তর স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে পরিস্থিতি অত্যন্ত অপ্রীতিকর ছিল, কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক দর্শকরা দেখছে বলে তিনি আর বিস্তারিত বলতে চান না। যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই সুন্দর বা প্রশংসনীয় কিছু নয় বলে নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা