
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও ঋতুস্রাবের সময়কার অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলিভাবে শেয়ার করেছেন। এই কঠিন দিনগুলোতে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধু বিজয় দেবেরকোন্ডা কীভাবে তাঁর শারীরিক ও মানসিক যত্ন নেন, সেই বিষয়টি তিনি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
রাশমিকা ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর মন মেজাজ খারাপ হলে কিংবা শরীরে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তিনি আগেই বিজয়কে সতর্ক করে দেন। তিনি জানিয়ে রাখেন যে আর মাত্র কদিন বাদেই তাঁর পিরিয়ড শুরু হতে চলেছে।
একজন পুরুষ হিসেবে এর চেয়ে বেশি আর কীইবা করার থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান যে পুরুষরা তো আর চাইলে তাদের শরীর থেকে গর্ভাশয় অপারেশন করে বের করে নিতে পারবেন না।
তবে এই সময়ে বিজয় সবসময় তাঁর পাশে থাকেন এবং সেই উপস্থিতিটাই তাঁর কাছে এক বিরাট মানসিক শান্তির উৎস। বিজয়ের এই মানসিক সমর্থন তাঁকে শক্তি জোগায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পিরিয়ডের তীব্র যন্ত্রণার সময়ে শারীরিক অস্বস্তি কমাতে বিজয় তাঁর হাত-পা ও পেটে পরম যত্নে মালিশ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ছোট ছোট যত্নগুলো তাঁর কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে সাহায্য করে।
ঋতুস্রাবের ব্যথা উপশম করতে বিভিন্ন ঘরোয়া উপায়ের কথাও এ সময় তুলে ধরেন জনপ্রিয় এই নায়িকা। তিনি জানান যে এই দিনগুলোতে হট প্যাড বা গরম পানির সেঁক এবং জিরা পানি পান করার মতো সাধারণ পারিবারিক উপাদানগুলো দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
কথার এক পর্যায়ে রাশমিকা নিজের জীবনের প্রথম ঋতুস্রাবের স্মৃতির রোমন্থন করেন। তিনি জানান যে ছোটবেলায় সঠিক সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাবে তাঁকে চরম ভীতি ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়েছিল।
সেদিনের স্মৃতির কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে সানিটারি প্যাড নামে বাজারে কিছু যে বিক্রি হয়, সে সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণাই ছিল না। ফলে নিরুপায় হয়ে তিনি তোয়ালে ভাঁজ করেই প্যাড হিসেবে ব্যবহার করতেন।
কোনো এক অজানা ও অমূলক কারণে ছোটবেলায় তাঁর মনে এমন একটি ধারণার জন্ম হয়েছিল যে এই শারীরিক ঘটনাটি হয়তো মানুষের জীবনে কেবল একবারই ঘটে থাকে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা