
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনে যোগ দিয়ে একটি অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি চিন্ময় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক ইমেজের মুখোমুখি হন তিনি। এই বিশেষ প্রযুক্তির কল্যাণে সাধু-সন্তদের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণের এই বিরল মুহূর্তটিকে তিনি এক অনন্য ও স্মরণীয় আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাধু-সন্তদের এই ধরনের আশীর্বাদ তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাঁর মতে, চিন্ময় মিশন কেবল একটি সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট দর্শন তথা “চিন্ময় চিন্তাধারা”র নিখুঁত প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।
এই মহাসম্মেলনের বিশেষ তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোদি উল্লেখ করেন যে, ‘চিন্ময়’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ও ভাবাদর্শ অমরত্বের প্রতীক বহন করে। ঠিক এই কারণেই ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনটি অত্যন্ত গভীর ও বিশেষ অর্থ বহন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান যুগের উন্নত প্রযুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজনে প্রযুক্তির নিখুঁত প্রয়োগ সমগ্র অভিজ্ঞতাকে আরও অনেক বেশি প্রাণবন্ত করে তুলেছে। হলোগ্রামের মাধ্যমে স্বামী চিন্ময়ানন্দের দিব্য ও জীবন্ত উপস্থিতি দেখে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে যে, তিনি যেন মুহূর্তের মধ্যে অতীতের ৩৩ বছর পিছিয়ে গেছেন।
১৯৯৩ সালে স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে নিজের সরাসরি সাক্ষাতের মধুর স্মৃতির কথা স্মরণ করে মোদি জানান, সেই অতীতে আধ্যাত্মিক নেতার স্নেহ এবং আশীর্বাদ পাওয়ার যে অনুভূতি তিনি লাভ করেছিলেন, আজকের এই হলোগ্রাফিক কথোপকথনের মাধ্যমেই তা পুনরায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আরও বলেন যে, ওই বিশেষ মুহূর্তের জন্য তাঁর মনে হয়েছিল তিনি যেন সেই পুরনো সময়টিতেই ফিরে যেতে পেরেছেন। তাঁর কাছে এই পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গভীর আবেগের একটি মুহূর্ত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিশেষে, এই চমৎকার ও সফল আয়োজনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব চিন্ময় মিশনকে প্রদান করে তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা