
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন বার্সেলোনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় কুবার্সি। আসন্ন লড়াইয়ের আগে প্রতিপক্ষ শিবিরে থাকা বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারকে নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন এই ডিফেন্ডার। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করায় দিয়োমান্দের পারফরম্যান্সের উচ্চ মান নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
শুধু একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় নয়, বরং রিয়াল মাদ্রিদের পুরো দলই এখন তাদের কৌশল বাস্তবায়নে বেশ স্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে বলে মনে করেন এই বার্সা তারকা। দিয়োমান্দের পাশাপাশি বিপক্ষ দলের বাকি ফুটবলারদেরও সফলভাবে আটকে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তাদের দল। এজন্য পুরো সময়জুড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনোযোগ বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলের সুযোগ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন কুবার্সি, যা তাদের দলের জয়ের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই লক্ষ্য পূরণে রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে পুরো দলকে নিবিড় একাগ্রতা নিয়ে লড়াই করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ব্রাজিলিয়ান তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিকের প্রশংসাও ঝরেছে বার্সা ডিফেন্ডারের কণ্ঠে। শুরুর দিকে মূল দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পেলেও, এই উঠতি তারকা ধীরে ধীরে নিজের পারফরম্যান্সের ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন বলে তিনি পর্যবেক্ষণে দেখেছেন।
প্রতিভার বিচারে এনদ্রিক অত্যন্ত উঁচুমানের একজন ফুটবলার এবং তার মধ্যে দারুণ সব সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন কুবার্সি। তাই মাঠের খেলায় এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি।
তবে এই সতর্কবার্তার সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে ছিলেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিজের একক এবং অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জোরে এই ফরোয়ার্ড যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ম্যাচের ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারেন বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনার এই রক্ষণপ্রহরী।
এমবাপ্পেকে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হলে পুরো নব্বই মিনিট ধরে এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ হারালে চলবে না। ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের বিপক্ষে রক্ষণ সামলানোর সময় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা ও একাগ্রতা বজায় রাখার কোনো বিকল্প দেখছেন না কুবার্সি।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের শুরুর একাদশে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঠে থাকবেন কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত কোনো দুশ্চিন্তা করছে না বার্সেলোনা। মূল দলে কে খেলছেন আর কে বাইরে থাকছেন, তার চেয়ে প্রতিপক্ষের সব খেলোয়াড়কেই সামগ্রিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
ম্যাচ শুরুর আগে প্রতিপক্ষ দলের চূড়ান্ত একাদশ প্রকাশিত হওয়ার পরই কেবল নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের থামানোর মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে বার্সা স্কোয়াড। মাঠে নামার পর শুরুর একাদশের পাশাপাশি বিপক্ষ দলের বদলি বেঞ্চে অপেক্ষমাণ ফুটবলারদের সামলানোর চ্যালেঞ্জ নিতেও তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা