
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মা ইলিশ সংরক্ষণের চলমান অভিযานের অংশ হিসেবে গত ১৬ দিনে সারা দেশে বা নির্দিষ্ট জেলায় ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এসব টানা অভিযানে সর্বমোট ১৯৬টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই দীর্ঘ অভিযানে আইন অমান্য করার অপরাধে মোট ১২৭ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত জেলেদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৬৭ জন জেলেকে। পাশাপাশি, আদালত বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের মাধ্যমে ৬০ জন জেলেকে সর্বমোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা জরিমানা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সময়ে অবৈধভাবে আইন ভাঙার দায়ে মোট ৯১টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য অবৈধ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ লাখ ৬০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ১টি স্পিডবোট এবং ১৮টি মাছ ধরার নৌকা রয়েছে। এছাড়া নিষিদ্ধ সময়ে ধরা প্রায় ৪ টন ইলিশও জব্দ করা হয়। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার সময় দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে কতৃপক্ষ।
মা ইলিশ রক্ষার এই কঠোর অভিযানের মধ্যে জেলেদের সরকারি সহায়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। জেলার মোট ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে সরকার খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৪২ হাজার ১৫০ জনের জন্য সর্বমোট ১৫৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এই বরাদ্দের বাইরে রয়ে গেছেন ১১ হাজার ৮৫০ জন জেলে। প্রকৃত ও নিবন্ধিত কোনো জেলে যেন এই সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বল্প জনবল নিয়ে কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরে মজুচৌধুরীর হাট নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক আবদুর রহমান জানান, সীমিত কর্মী নিয়ে প্রতিনিয়ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে নৌ-পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জেলেদের সঙ্গে কোনো ধরনের আঁতাত, অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ম্যানেজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয়ের সঙ্গে নৌ-পুলিশ মোটেও জড়িত নয় এবং নদীতে নিয়মিত টহল সর্বদা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বর্তমান নিষেধাজ্ঞার পরিধি ও কঠোরতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, জাটকা সংরক্ষণ এবং মা ইলিশ রক্ষার্থে বর্তমানে ২২ দিনের বিশেষ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এই নির্ধারিত সময়ে যেকোনো ধরনের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং মজুত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি এই আইন অমান্য করলে কঠোর শাস্তি হিসেবে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে এবং কাউকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, ইলিশ রক্ষায় এই অভিযান কোনোভাবেই থামবে না এবং তা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা