
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর অভিজাত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধারকৃত গাড়ি বিক্রেতা শিহাব উদ্দিনের জীবনাবসানের নেপথ্যের প্রকৃত কারণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তার নিকটাত্মীয়রা। নিহতের পরিবারের জোরালো অভিযোগ, একটি পরিকল্পিত প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই অপরাধকে ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
গত রোববার সকালে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জাতীয় প্রেসক্লাবের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে নিহতের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জনক আবদুল মালেক ছাড়াও তার তিন ভাই এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় বলে জানা গেছে।
গত বিশ আগস্ট সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজ ফ্ল্যাট থেকে শিহাব উদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর পাঁচ দিন পর নিহতের অগ্রজ ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত করা হয়েছে মৃত ব্যবসায়ীর প্রেমিকা মাহজাবিন ইসলাম রিয়াকে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিন মালেক জানান, নিহত ব্যক্তি পূর্বে বন্দরনগরীতে খাবার হোটেলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজধানীতে এসে অটোমোবাইল ব্যবসা শুরু করেন। এই সুবাদেই অভিযুক্ত তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাকে সুকৌশলে ফাঁদে ফেলা হয়।
প্রেমিকা বিয়ের প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় দুইজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে বলে জানানো হয়। এই জটিলতার কথা নিহত ব্যক্তি তার স্বজনদের সঙ্গেও শেয়ার করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি বন্দরনগরীতে ফিরেও গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ওই তরুণীর বিশেষ আমন্ত্রণে উনিশ আগস্ট তিনি রাজধানীতে ফিরে আসেন এবং পরদিনই তার জন্মদিন নির্ধারিত ছিল। এক দিন বাদেই তার গ্রামের বাড়ি ফেরার বিমান টিকিট কাটা থাকলেও তার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্ত তরুণীকে ধারালো অস্ত্র হাতে মৃত ব্যক্তিকে হুমকি দিতে দেখা গেছে। এছাড়া লাশ উদ্ধারের সময় সেখানে একজন তত্ত্বাবধায়ক এবং অজ্ঞাতনামা এক নারী উপস্থিত থাকায় তাদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম অধিকতর সূক্ষ্মভাবে সম্পন্ন করার জন্য পিবিআইয়ের নিকট হস্তান্তরের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহের আঘাতের চিহ্ন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং মুঠোফোনের কল রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করার আর্জি পেশ করা হয়।
দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হলেও মামলার প্রধান অভিযুক্তকে পুলিশ এখনও আইনের আওতায় আনতে পারেনি বলে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। উল্টো প্রধান আসামি জামিন লাভ করায় গভীর উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।
তদন্তকারী সূত্রের বরাতে জানা যায়, দুই পক্ষের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের নথিতেও একই ইঙ্গিত মিললেও এই মামলার চূড়ান্ত তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতের মাধ্যমে জামিন নিয়েছেন অভিযুক্ত তরুণী। তদন্তে প্ররোচনার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।