
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত অঞ্চলে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য অবশেষে উন্মোচন করার দাবি জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ছোট ভাইসহ দুজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা দুজনই নিজ দায়িত্বে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট ওই উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের অধীন নিমগাছী নামক এলাকা থেকে আবদুল মালেক নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার একই অঞ্চল থেকে তাঁর অন্যতম সহযোগী কাকলী রানীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সবশেষ গতকাল শনিবার তাঁরা দুজন আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের কাছে নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। আজ রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ১ জুলাই তারিখে নিমগাছী এলাকায় অটোরিকশাচালক কছিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী থানায় উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক পর্যায়ে সবাই ধরে নিয়েছিল যে বাহনটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তে এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ঘটনার আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল এবং এটি মূলত কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না। মূলত দুই ভাইয়ের মধ্যকার বহুদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও বিরোধের জেরে এই হত্যার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে জানান যে, ওই সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের শুরুতে কোনো ধরনের শক্ত সূত্র বা ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির ও মন্থর গতিতে চলতে থাকে। পরবর্তীতে ঘটনার বেশ কিছুদিন পর পুলিশ পুনরায় নতুন উদ্যমে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ঘটনাস্থলে মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই জোড়া স্যান্ডেলই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মূলত ওই জুতার সূত্র ধরেই নিহতের ছোট ভাই আবদুল মালেককে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তীতে তাঁকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের ভাইেক হত্যার কথা স্বীকার করেন।
আটককৃতদের দেওয়া জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে পুলিশ আরও জানায় যে, এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য আবদুল মালেক আগে থেকেই অপরাধী ভাড়া করেছিলেন। পুরো ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিলেন। ঘটনার দিন গভীর রাতে তিনি নিজের ভাড়া করা আরও দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং কছিম উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন। এরপর তাঁরা মৃত ব্যক্তির বাহনটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
অন্যদিকে এই পুরো ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া কাকলী রানী নির্দিষ্ট বিশ হাজার টাকার আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে কছিম উদ্দিনকে ডেকে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে এসেছিলেন। অভিযুক্ত এই নারী দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে নিমগাছী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন এবং অপরাধ সংঘটনে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তির বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। বর্তমানে এই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত পলাতক অন্যান্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।