
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নে কাওসার হাওলাদারকে নৃশংসভাবে হত্যার পর চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর চার শিশুসন্তানসহ পুরো পরিবারটির। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকে ও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী সাগরী বেগম। অবুঝ শিশুগুলোর বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
পরিবারটির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে। মাত্র ছয় বছর বয়সী ছোট মেয়ে তুবা বারবার প্রশ্ন করছে, সে কাকে বাবা বলে ডাকবে? এই সহজ অথচ মর্মান্তিক প্রশ্নের কোনো উত্তর কারো জানা নেই। অন্যদিকে, চার বছরের ছোট্ট শিশু আবু হুরাইরা এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না যে তার বাবা চিরকালের মতো দূরে চলে গেছেন এবং আর কখনো বাড়ি ফিরবেন না।
পরিবারের বড় সন্তানদের মনেও বাসা বেঁধেছে গভীর শঙ্কা ও আকুতি। ১০ বছরের মেয়ে নুসরাত দৃঢ়তার সঙ্গে তার বাবার নৃশংস হত্যাকারীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসি দাবি করেছে। এছাড়া ১৪ বছরের কিশোরী ফাতেমা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে এই ভেবে যে, মাথার ওপর ছাদ ও ভরসা হিসেবে বাবা না থাকায় এখন তাদের দৈনন্দিন পড়াশোনার খরচ কে চালাবে এবং কীভাবে তারা বেঁচে থাকবে।
প্রিয় স্বজনকে হারানোর এই অন্তিম বেদনার মাঝেও নিহত কাওসারের পরিবারের একটাই স্পষ্ট দাবি রয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যেন এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা