
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে এবং পরবর্তীতে সামাজিক চাপে সেই নবজাতক ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে তরুণীর বাবা মারা যান এবং তখন থেকেই তাঁর মা চার ভাই-বোনকে নিয়ে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে জীবন অতিবাহিত করছেন। পরিবারে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নানা ধরনের চাপ ও হুমকি মোকাবিলা করতে তাদের প্রতিনিয়ত চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগীর বোন গণমাধ্যমকে জানান যে, গত শুক্রবার রাতে তাঁর বোন একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু তাদের ভঙ্গুর পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং সমাজে কোনো ধরনের স্বীকৃতি পাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে শেষ পর্যন্ত নবজাতকটিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্য কারও কাছে হস্তান্তর বা দিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁর বোনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অনৈতিক ঘটনার বিচার বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে স্থানীয়ভাবে তিন লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রভাবশালী মহলের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুত টাকা শেষ পর্যন্ত তারা আদৌ হাতে পাবেন কি না, তা নিয়ে পরিবারটি গভীর সংশয় ও আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে এই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকেই তীব্র সামাজিক অপবাদ এবং লোকলজ্জার ভয়ে ওই ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে নিজ বাড়ি ছেড়ে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারটি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। একইসঙ্গে তারা বিক্রি হয়ে যাওয়া নবজাতকের সঠিক অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা