
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একজন অধ্যাপক উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়া সারের পেটেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন লাভ করেছে। এই উদ্ভাবনটি দেশের কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যবিপ্রবির শিক্ষক ড. জাভেদ হোসেন খান আজ থেকে তিন বছর আগে, অর্থাৎ ২০২১ সালে এই পেটেন্ট পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তা অনুমোদিত হওয়ায় তিনি আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
পেটেন্ট পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গবেষক ড. জাভেদ হোসেন খান এর নেপথ্যে সহায়তাকারীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সাফল্যের যাত্রায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা এবং উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর ঐকান্তিক সহায়তা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে।
দেশীয় মাটি, কৃষি এবং কৃষিজীবী মানুষের কল্যাণ সাধনের ব্রত নিয়েই তারা নিরলসভাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ড. জাভেদ হোসেন খান। তার মতে, কৃষিক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা অনেক বেড়ে যাবে।
নতুন এই সারের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ইউরিয়া সারের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, তেমনই কৃষকদের উৎপাদন খরচও বহুলাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে এটি ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার জনিত কারণে পরিবেশের ওপর যে নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হয়, তা হ্রাসেও এই ন্যানো ইউরিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে গবেষক আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞ গবেষক মহলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই পেটেন্ট প্রাপ্তির ফলে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটির আরও উৎকর্ষ সাধন, শিল্প খাতের নিকট প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে।
সঠিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে, মাঠ পর্যায়ে এর কার্যকারিতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে প্রযুক্তিটি মাঠে নামানো গেলে তা কৃষির জন্য কল্যাণকর হবে।
এতে করে সারের ব্যবহার আরও ফলপ্রসূ হবে, কৃষকদের খরচের বোঝা কমবে এবং দেশে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার ঘটা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর এই অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, ড. জাভেদ হোসেন খানের নিরলস সাধনা ও গবেষণার ফলেই আজকের এই সফলতা এসেছে।
উপাচার্য আরও যোগ করেন যে, ন্যানো ইউরিয়া সারের এই পেটেন্ট পাওয়ার ঘটনা কেবল যবিপ্রবি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যই নয়, বরং গোটা জাতির জন্যই এক অত্যন্ত গর্বের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনটি কেবল তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক গবেষণামূলক সক্ষমতার প্রমাণই দিচ্ছে না, বরং বাংলাদেশের কৃষি খাতে যুগান্তকারী এক পরিবর্তন বা বিপ্লব সাধনের অপার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা