
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিকেলের দিকে হালকা ক্ষুধা মেটাতে এবং মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা দূর করতে সহজ ও সুস্বাদু একটি খাবার হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে খেজুর এবং কুমড়ার বীজ। এই দুটি খাবারের সুষম সংমিশ্রণ দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টির এক দারুণ বৈচিত্র্য এনে দিতে পারে, যেখানে রান্নার কোনো রকম ঝামেলা পোহাতে হয় না এবং এর প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোও অত্যন্ত সহজলভ্য। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই নাশতা তৈরি করার পদ্ধতিটিও ভীষণ সহজ, যার জন্য কেবল দুটি খেজুরের ভেতরে কয়েকটি কুমড়ার বীজ ভরে নিলেই তা প্রস্তুত হয়ে যায়।
প্রাকৃতিক উপাদানে ভরপুর খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শর্করা এবং খাদ্যআঁশ, যা শরীরের ভেতরে শক্তি জোগাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। এছাড়া এই ফলে উপস্থিত পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ মানুষের হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং পটাশিয়ামসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় খনিজ পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্রম সচল রাখে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে খেজুরে শর্করার মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে, তাই একসঙ্গে অনেকগুলো না খেয়ে পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
যাঁদের নিয়মিত রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাঁদের অবশ্যই ব্যক্তিগত খাদ্যচাহিদার কথা মাথায় রেখে খেজুর খাওয়া উচিত। অন্যদিকে, আকারে বেশ ছোট হলেও কুমড়ার বীজ পুষ্টিগুণের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এর মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও অসম্পৃক্ত চর্বি। এই উপাদানের ভেতরে থাকা ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং জিঙ্ক শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা ও ক্ষত নিরাময়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
শরীরে রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে হিমোগ্লোবিন, আর আয়রন ঠিক এই হিমোগ্লোবিন তৈরিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। মানবদেহের কোষ ও পেশির সঠিক গঠন এবং তা নিয়মিত মেরামতের কাজে কুমড়ার বীজে থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন দারুণভাবে সাহায্য করে থাকে। এছাড়া এর ভেতরে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে শরীরের জন্য বেশ উপকারী হলেও এর থেকে পুষ্টি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে খাওয়ার পরিমাণের ওপর।
খাবারের গঠনে ও স্বাদে এক চমৎকার বৈচিত্র্য দেখা যায়, কারণ খেজুরের নরম গঠন ও মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে কুমড়ার বীজের মচমচে ভাবটি দারুণভাবে মানানসই। পুষ্টির দিক থেকেও এই দুটি উপাদান একে অপরের চমৎকার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে খেজুর শরীরকে শক্তি দেয় এবং কুমড়ার বীজ প্রোটিন, চর্বি ও খনিজ যোগ করে। সুস্বাদু এই সংমিশ্রণটি সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবারের একটি অংশ হিসেবে অনায়াসেই গ্রহণ করা সম্ভব।
ব্যায়ামের আগে অথবা পরে মানুষের ক্ষুধা এবং নিজস্ব দৈনিক খাদ্যচাহিদা অনুযায়ী এই বিশেষ নাশতাটি খাওয়া যেতে পারে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, খেজুর ও কুমড়ার বীজ একসঙ্গে মিলিয়ে খেলে আলাদাভাবে খাওয়ার তুলনায় নতুন বা বিশেষ কোনো অতিরিক্ত পুষ্টিগত সুবিধা পাওয়া যায়—এমন কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এই খাবারের সমস্ত পুষ্টিগুণ মূলত প্রতিটি উপাদানের নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থেকেই পুরোপুরিভাবে আসে।
খাবারটি খাওয়ার শুরু করার জন্য দুটি খেজুরের সঙ্গে এক চা-চামচ কুমড়ার বীজ ব্যবহার করা যেতে পারে। খেদের আকার এবং বীজের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এই সুস্বাদু নাশতাটির মোট ক্যালরির পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাঁদের শরীরের ওজন কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের খাওয়ার পরিমাণের বিষয়ে অবশ্যই সচেতন থাকা দরকার।
খাবারটি অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও এটি কখনোই মানুষের কোনো পূর্ণাঙ্গ খাবারের বিকল্প হতে পারে না। প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, শস্য, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। শরীরে যদি কোনো নির্দিষ্ট ভিটামিন কিংবা খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসক অথবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য সব সময় অনেক দামি উপকরণ কিংবা জটিল কোনো খাবার রান্না করার কোনো প্রয়োজন হয় না। অত্যন্ত পরিচিত ও সাধারণ খাবারগুলোকে সঠিক পরিমাণে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করেও শরীরের পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়ানো সম্ভব। খেজুর ও কুমড়ার বীজের এই অত্যন্ত সহজ সংমিশ্রণটি তেমনই একটি দারুণ বিকল্প, যা প্রতিদিনের নাশতায় স্বাদ ও পুষ্টি—দুটিই সমানভাবে যোগ করতে পারে। তবে এই খাবারটিকে অলৌকিক কিছু ভেবে অতিরিক্ত খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং পরিমিত খাবার গ্রহণ, বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং শরীরের প্রয়োজন অনুসারে খাবার নির্বাচন করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।