
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীদের মধ্যে দৈনন্দিন কাজের পরিবেশের কারণে মানসিক উদ্বেগের মাত্রা অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কর্মীদের মানসিক চাপের সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা এই তালিকায় সবচেয়ে ওপরের অবস্থানে রয়েছে গ্রিস।
গ্রিসের অর্থনৈতিক অঙ্গনে চলা দীর্ঘমেয়াদী মন্দা, পরিশ্রমী কাজের পরিবেশ এবং নির্দিষ্ট কিছু খাতে বাধ্যতামূলক ছয় দিনের কাজের সপ্তাহের নিয়মের কারণে এখানকার কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। দেশটির প্রায় শতকরা একষষ্টি ভাগ কর্মী নিয়মিতভাবে বেশ ভারী মাত্রার মানসিক চাপের মুখোমুখি হন।
সীমিত ভূখণ্ড ও জনবহুল রাষ্ট্র মাল্টায় ডিজিটাল গেমিং ও ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক অগ্রগতির ফলে শ্রমিকদের ওপর কর্মব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে গেছে। সেখানকার শতকরা সাতান্ন ভাগ কর্মী তাদের কর্মক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানসিক অস্বস্তি বা চাপের কথা স্বীকার করেছেন।
ভূমধ্যসাগরীয় রাষ্ট্র সাইপ্রাসে অনেক কর্মচারী সপ্তাহে ছয় থেকে সাত দিন পর্যন্ত কাজ করে থাকেন। অতিরিক্ত সময় ধরে অফিসে কাজ করার ফলে ব্যক্তিগত বিশ্রামের সুযোগ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সেখানকার শতকরা ছাপ্পান্ন ভাগ কর্মী মানসিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
অর্থনৈতিক কাঠামোর নানা জটিলতা এবং কাজের প্রকৃত উৎপাদনের চেয়ে অফিসে শারীরিক উপস্থিতিকে বেশি মূল্যায়ন করার মানসিকতার কারণে ইতালির কর্মী সমাজেও এই সমস্যা প্রকট। দেশটির শতকরা একান্ন ভাগ কর্মী প্রতিদিন উচ্চমাত্রার মানসিক উদ্বেগে ভোগেন।
অপর্যাপ্ত পারিশ্রমিক এবং দীর্ঘস্থায়ী কর্মঘণ্টা পর্তুগালের কর্মীদের জীবনে বাড়তি মানসিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। দেশটির শতকরা সাতচল্লিশ ভাগ পেশাজীবী কর্মক্ষেত্রে প্রচুর মানসিক চাপ অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন।
আবাসন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি, কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চাকরির ক্ষেত্র এবং কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপের ফলে ব্রিটিশ নাগরিকদের শতকরা ছেচল্লিশ ভাগ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন।
বিশাল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি, কর্মীদের কাছ থেকে অতি উচ্চ মাত্রার কর্মদক্ষতা অর্জনের প্রত্যাশা এবং প্রতিদিন সীমানা পেরিয়ে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি লুক্সেমবার্গের শ্রমিকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এখানকার শতকরা তেতাল্লিশ ভাগ কর্মী এই চাপের শিকার।
রাজনৈতিক কাঠামোর জটিলতা, ভাষার বহুমুখিতা এবং বিভিন্ন সরকারি ও বৈশ্বিক সংস্থায় কাজের তীব্র চাপের কারণে বেলজিয়ামের শতকরা তেতাল্লিশ ভাগ কর্মী উল্লেখযোগ্য মানসিক উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটান।
খনিজ তেল আহরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শনের বাধ্যতামূলক চাপ এবং কাজের পারফরম্যান্স বজায় রাখার লড়াইয়ে নরওয়ের শতকরা তেতাল্লিশ ভাগ কর্মী মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন।
বিশেষ করে রাজধানী ডাবলিনের বৃহৎ প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মারমুখী সংস্কৃতির কারণে আয়ারল্যান্ডের শতকরা বিয়াল্লিশ ভাগ কর্মী কর্মক্ষেত্রে গুরুতর মানসিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।