
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটারের কেন্দ্রে এসে ভোটদানই লুলাকে শেষ পর্যন্ত এই সাফল্য এনে দিয়েছে। থিঙ্ক পলিসির সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেতো জানান, সাধারণ মানুষ বলসোনারোর অনিশ্চিত ধারার চেয়ে লুলার পরিচিত এবং পরীক্ষিত নেতৃত্বকেই অধিকতর নিরাপদ মনে করেছে।
লিওনার্দো বারেতো আরও ব্যাখ্যা করেন যে নাগরিকেরা বর্তমান সময়ে অস্বস্তিকর পরিবর্তনের পথে হাঁটার চেয়ে এমন একটি সুপরিচিত ব্যবস্থার পক্ষেই রায় দিয়েছেন, যা তাঁদের মৌলিক অধিকারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকে।
ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘোরার সময় লুলা অতীতে তাঁর শাসনকালের দরিদ্র বিমোচন ও বৈষম্য দূরীকরণের বিভিন্ন সফল পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে তাঁর আগের তিন মেয়াদের সময়কালে দেশের বেকারত্ব, নিরক্ষরতা এবং বন ধ্বংসের হার সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল।
১৯৮০-এর দশকে ব্রাজিলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্বহালের পর তিনিই একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি নির্বাচনের প্রথম পর্বে পেছনে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনলেন।
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার এই দেশটির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী লুলা বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও জনপ্রিয় রাজনীতির এক অপূর্ব সমন্বয়ে তাঁর প্রচারকাজ পরিচালনা করেছিলেন। বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে দেশের জাতীয় রাজনীতিতে টিকে থাকার ক্ষেত্রে তাঁর এই রাজনৈতিক কৌশলই তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি সাধারণ শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু যুগান্তকারী সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারের অন্তিম পর্যায়ে তিনি দেশবাসীর জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিনামূল্যে গণপরিবহন সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেন, যদিও তা আইনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাস করতে হবে।
পাশাপাশি তিনি তাঁর বহুল আকাঙ্ক্ষিত সামাজিক কল্যাণ খাতের বাজেট তহবিল শতকরা ১৫ ভাগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন, যার কিছু কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
এছাড়াও তিনি একটি বিশেষ সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় শ্রমিক আইন সংস্কার হিসেবে পার্লামেন্টে বিপুল সমর্থন পেয়ে অনুমোদিত হয়।
এতকিছুর পরেও নতুন রাজনৈতিক মেয়াদে লুলার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আশির দশকে দেশে গণতন্ত্র ফেরার পর এবারই সবচেয়ে বেশি রক্ষণশীল মানসিকতার সংসদ নির্বাচিত হয়েছে।
প্রতিপক্ষ বলসোনারোর দল লিবারেল পার্টি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা মিলে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে দুই শতাধিক আসন এবং উচ্চকক্ষে প্রায় অর্ধশত আসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
সংসদের উভয় কক্ষেই এই শক্তিশালী অবস্থান রক্ষণশীল দলগুলোকে অত্যন্ত সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করবে, যা লুলার জন্য আগামী দিনগুলোতে বেশ বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার জন্ম দিতে পারে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা