
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেওয়ার জেরে শেষ পর্যন্ত দল থেকে বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার এক যুবদল নেতা। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেন ওই বিএনপি নেতা। তবে ওই সময় ফেসবুকে দেওয়া মূল পোস্টে নিজের অন্তর্দহন বা ক্ষোভ প্রকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা প্রেক্ষাপট তিনি পরিষ্কার করেননি।
পরবর্তীতে এ বিষয়টি সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসলে এবং তারা কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত রুবেল চৌধুরী নিজের অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন বিস্ফোরক ব্যাখ্যা দেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে, এই ঘটনার পেছনে দেশের ও দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং নানা বিষয় জড়িত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণে দলীয় নেতাকর্মীসহ বহু মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং এই নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রুবেল চৌধুরী গণমাধ্যমকে আরও বলেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত উচ্চাশা পোষণ করেন এবং নিজেকে খুব পণ্ডিত বলে মনে করেন। তিনি মুখে বিএনপির রাজনীতি করলেও মূলত ভারতের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর হয়ে এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন বলে নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়নে তিনি বিশ্বাস করেন। এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে, এসব নানা কারণে অনতিবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত।
এদিকে এ ধরনের আপত্তিকর ও বিতর্কিত পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঠিক একদিন পর রুবেল চৌধুরী তার অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি ডিলিট বা মুছে ফেলেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে, কারণ তার মূল পোস্টটি মুছে ফেলার আগেই সেটির স্ক্রিনশট বা ছবি ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ব্যাপকভাবে ভাইরাল ও ছড়িয়ে পড়ে।
নেতার এই ধরনের দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। রুবেল চৌধুরীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার এই পুরো বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন সখীপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল। তিনি জানান যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত এই নেতাকে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনোভাবেই নিজেকে সংশোধন করেননি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা