
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থাৎ আইএমএফের সাম্প্রতিক একটি প্রকাশনায় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং দুটি বড় সংঘর্ষের ফলে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে দেশ দুটি কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে তা ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বেড়ে ৫০৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ভারতের অর্থনীতির আকার আরও বিশাল হয়ে ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সাধারণ হিসাবের এই চিত্র বদলে যায় যখন ক্রয়ের সক্ষমতার তুলনামূলক পরিমাপ বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি অর্থাৎ পিপিপি বিবেচনায় নেওয়া হয়। স্থানীয় বাজারে পণ্যের দামের তারতম্য এই সূচকে সমন্বয় করা হয়ে থাকে, যার ফলে সামগ্রিক অগ্রগতিরলব্ধ এই হিসাবটিতে ভিন্নতা দেখা দেয়।
পিপিপির মাপকাঠিতে পর্যালোচন করলে দেখা যায় যে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১২ হাজার ৯৯৮ ডলারে উন্নীত হতে পারে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পূর্বাভাস নির্ধারিত হয়েছে ১০ হাজার ৮৮৪ ডলারের ঘরে।
অর্থনৈতিক পরিভাষায় পিপিপি হলো এমন একটি নির্দেশক যা জীবনযাত্রার ব্যয়ভার হিসাবের পর নির্দিষ্ট মুদ্রায় প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ পণ্য কেনা সম্ভব তা নির্ধারণ করে। এই পরিসংখ্যানের সহজ অর্থ দাঁড়ায় যে বাংলাদেশের নাগরিকদের তুলনায় ভারতের জনগণের সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বেশি।
মূল্যস্ফীতির হারের দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে কারণ আইএমএফ বাংলাদেশে গড় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে। বিপরীতে ভারতের অর্থনীতিতে এই মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে ব্যয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় বিরাজ করছে। ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় বড় এবং তাদের একটি শক্তিশালী শিল্প ভিত্তি রয়েছে, যার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যাপক অবদান বিদ্যমান।
বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই হার বাংলাদেশের অনুমিত ৩ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারের প্রায় দ্বিগুণ।
সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে অনুধাবন করার জন্য বৈশ্বিক গড়ের তুলনাটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে মাথাপিছু জিডিপির গড় পরিমাণ সাধারণত ৭ হাজার ৭৪৬ ডলারের কাছাকাছি হয়ে থাকে।
অন্যদিকে সারা বিশ্বের পরিসংখ্যানে এই গড় মাথাপিছু জিডিপি ১৫ হাজার ৮৮৯ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের বিপরীতে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৮৮৬ ডলার এবং ভারতের ক্ষেত্রে তা ২ হাজার ৭৪৯ ডলারে অবস্থান করছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা