
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঐতিহাসিক স্মারক, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দীর্ঘ সময় পরিক্রমার উপজীব্য নিয়ে দুবাই শহরে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তিনজন শিল্পীর যৌথ শিল্পকর্মের প্রদর্শনী। এই নান্দনিক আয়োজনে দর্শকের সামনে নানা ধরনের নিদর্শন তুলে ধরা হলেও নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় না।
বরং প্রদর্শনীটি দেখতে আসা ব্যক্তিদের মনোযোগ দিতে বলা হয় বিলীন হয়ে যাওয়া বিষয়, রূপান্তর এবং বর্তমান বাস্তবতায় টিকে থাকা উপাদানের প্রতি। এর মধ্য দিয়ে দর্শক ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা, পরিবেশগত রূপান্তর এবং মানবজীবনের সাধারণ পরিধি ছাড়িয়ে বিশাল কালপরিক্রমার ভেতর দিয়ে চলাচল করার সুযোগ পান।
নিজেদের অজান্তেই এই আয়োজনে অংশ নেওয়া দর্শক তখন একধরনের স্মৃতিসংরক্ষণাগার তৈরির কাজে জড়িয়ে পড়েন। তারা বিভিন্ন ছড়ানো-ছিটানো সূত্র বা চিহ্নগুলোকে একত্রিত করে তা থেকে মূল তাৎপর্য উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যান।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত আমাদের সেই চিরচেনা প্রশ্নটির মুখোমুখি দাঁড় করায় যে শিল্প আদতে কী কাজের জন্য তৈরি হয়। প্রথম নজরে ‘The sky held it, the earth remembered’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীটিকেও পরিবেশের চরম অবক্ষয় এবং প্রকৃতি ধ্বংসের নিয়মিত আয়োজনগুলোর একটি বলেই ভ্রম হতে পারে।
তবে একটু মনোযোগ দিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই আয়োজনের মূল বার্তা এবং অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ধীরে ধীরে মানুষের বোধগম্য হয়ে ওঠে। এর আসল দর্শন লুকিয়ে রয়েছে সামগ্রিক দেখার বা উপলব্ধি করার নিজস্ব প্রক্রিয়ার ভেতরেই।
পরিবেশ ও সময়ের পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত আসলে কী অবিকৃত থাকে এবং কোন বিষয়গুলো চোখের আড়ালে চলে যায়, তা নিয়ে ভাবায় এই প্রদর্শনী। একই সঙ্গে একসময় নির্দিষ্ট স্থানে ঠিক কী ধরনের অস্তিত্ব ছিল, তা আমরা কীভাবে অনুধাবন করতে পারি, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট উত্তর অনুসন্ধানের মাধ্যমেই প্রদর্শনীটি সামগ্রিকভাবে শিল্পের প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।
শিল্প কেবল দৃশ্যমান বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেই ক্ষান্ত হয় না, বরং এটি মাঝেমধ্যে হারিয়ে যাওয়া অতীত বাস্তবতাকে মানুষের স্মৃতির পাতায় জীবন্ত করে রাখে।
অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ইতিহাসের বিভিন্ন চিহ্ন অত্যন্ত সুনিপুণভাবে খুঁজে বের করতে এবং আমাদের চোখের সামনে ঘটে চলা পরিবর্তনগুলোকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করে এই শিল্পকর্মগুলো।
সূত্র: আজকের পত্রিকা