
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দুর্নীতি দমন কমিশনের সংগৃহীত হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, অভিযুক্ত টুম্পা বেগমের মোট সাতাশটি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের অষ্টম মাসের অষ্টম দিন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের চতুর্থ মাসের চতুর্থ তারিখ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অর্থ জমা ও উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। আলোচিত এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাংক হিসাবগুলোতে জমা হয়েছিল তেত্রিশ কোটি দশ লাখ পঞ্চান্ন হাজার সাতশো আটাত্তর টাকা এবং একই সঙ্গে উত্তোলন করা হয়েছিল পঁচিশ কোটি একান্ন লাখ আটান্বাত্তর হাজার পাঁচশো পঞ্চান্ন টাকা। সব মিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া সর্বমোট আর্থিক লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে আটান্ন কোটি বাষষ্টি লাখ চৌপঞ্চান্ন হাজার তিনশো তেতাল্লিশ টাকায়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, শাহীন নামের এক ব্যক্তি এবং তাঁর বোন সায়লা ফারজানা ও ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে ঘুষ গ্রহণ, চরম দুর্নীতি এবং অর্জিত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই অবৈধ পন্থায় কামানো অর্থগুলোকে বৈধ ও পরিষ্কার রূপ দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্রমূলক অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই মূলত টুম্পার নামে নানা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন এবং এই বিশাল অংকের ব্যাংক লেনদেনগুলো পরিচালনা করা হয়েছিল।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন এই চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারে টুম্পা, শাহীন, সায়লা ফারজানা এবং মনিরুল ইসলামকে সরাসরি অভিযুক্ত বা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে আদালতে এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুটি পৃথক মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের গুরুতর অভিযোগগুলো আনা হচ্ছে। এই আইনি পদক্ষেপে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সাতাশ ধারা উপধারা এক, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের পাঁচ ধারা উপধারা দুই, ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের চার ধারা উপধারা দুই ও তিন এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার বিধান অনুযায়ী অপরাধের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা