
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা সমাপ্ত হওয়ার পরদিনই ঐতিহ্যবাহী বউ মেলার আসর বসে। এই জমজমাট মেলাটি কেবল একদিনের জন্য স্থায়ী হয় এবং এর সমস্ত আয়োজন পরিচালিত হয় নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে।
যদিও এই বিশেষ মেলায় নারী বিক্রেতাদের পাশাপাশি পুরুষ বিক্রেতারাও নিজেদের পণ্য নিয়ে বসতে পারেন, তবে ক্রেতা হিসেবে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ বজায় থাকে। এখানে একমাত্র নারীরাই প্রবেশাধিকার পান এবং কেনাকাটা করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন।
ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ না রেখে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সর্বস্তরের নারীরা এই মেলায় অংশ নিতে আসেন। সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় মেলার সার্বিক প্রস্তুতি পর্ব এবং বিক্রেতারা তাদের স্টল সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
দুপুরের গণ্ডি পেরিয়ে যখন বিকেল ঘনিয়ে আসে, তখন মেলা প্রাঙ্গণে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তাদের এই পদচারণায় পুরো মেলা প্রাঙ্গণটি মুখরিত হয়ে ওঠে।
দোকানিরা মেলার মাঠে বড় বড় শামিয়ানা টানিয়ে তার নিচে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে নিজেদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। মেলায় আসা নারীরা নিজেদের পছন্দমতো পণ্য কিনতে স্টলগুলোতে ঘুরে বেড়ান।
মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনসামগ্রী, ছোট শিশুদের আনন্দ দেওয়ার নানা খেলনা, চমৎকার সব হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্পের জিনিসপত্র এই মেলার মূল আকর্ষণ। পাশাপাশি গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা জিনিসের দোকানও বসে সেখানে।
এ ছাড়া বিভিন্ন রকমারি ও মুখরোচক খাবারের দোকানগুলোতেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন ও উপচে পড়া ভিড় সারাদিন ধরেই লেগেই থাকে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা