
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা ক্রমশ মাথাচাড়া দেওয়ায় তিনি তাঁর বাকি নিবাসগুলোতে যাতায়াত যথেষ্ঠ সীমিত করেছেন। যদিও সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে যে, বিগত কয়েক বছর ধরে ভলদাইয়ের এই বিচ্ছিন্ন ও নিভৃত বাড়িতে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত বজায় রয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোপন ঠিকানায় তাঁর দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী ও সাবেক বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ আলিনা কাবায়েভা এবং তাঁদের দুই সন্তান একত্রে বসবাস করে আসছেন।
দুটি বৃহৎ হ্রদের মাঝখানে ঘন অরণ্যে ঘেরা উপদ্বীপের এই সুরক্ষিত আবাসন চত্বরে বিশাল আকৃতির একটি নান্দনিক প্রাসাদ রয়েছে। সেখানে প্রায় তেরো হাজার বর্গফুট পরিমাপের একটি কাঠের অবকাশযাপন গৃহ বা দাচা ছাড়াও আরও কয়েকটি জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে ভৌগোলিকভাবে এই দুর্গম অবস্থানটি আকাশপথের মানবহীন ড্রোন আক্রমণ থেকে বাঁচতে বাড়তি একটি প্রতিরক্ষামূলক বলয় গড়ে তুলেছে। এতকিছুর পরেও, ওই রাজকীয় বাসভবনটির চারপাশজুড়ে মোট পঞ্চাশটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সম্প্রতি নতুন করে আরও পনেরোটি ইউনিট সেখানে স্থাপন করা হয়েছে।
খবর রয়েছে যে, ভলদাইয়ের এই গোপন রানীনবাসের ভেতরে একটি গভীর ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া, সেখানে তাঁর মস্কোর সরকারি কার্যালয়ের একটি একদম অবিকল প্রতিকৃতিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা যায়।
এমন বন্দোবস্তের প্রধান লক্ষ্য হলো, প্রেসিডেন্ট ঠিক কোন জায়গায় অবস্থান করছেন সেই বিষয়ে শত্রু পক্ষের মনে সুচতুরভাবে ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তি তৈরি করা।
এই বিলাসবহুল বসতির চারপাশ ঘিরে অত্যন্ত কড়া ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ওই সীমানা এলাকার ভেতর যেকোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সেখানে জলযান ভেড়ানো, গাড়ি মেরামত করা, যেকোনো ধরনের আবর্জনা ফেলা এবং অস্ত্র দিয়ে গুলি চর্চার পরিসর পরিচালনা করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, প্রায় নব্বইটির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়ে ইউক্রেন বাহিনী এই ভলদাই বাসভবনে আঘাত হানার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।
যদিও ইউক্রেনীয় প্রশাসন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ উভয়েই ক্রেমলিনের ওই অভিযোগ জোরালো ভাষায় সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছিল।
ওই ঘটনার ঠিক পরপরই পুতিনের ওই বিশেষ বাসস্থানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা আরও বেশি জোরদার করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা