
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কালাইয়ের কৃষকদের উৎপাদনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় একটি গভীর নলকূপ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রায় দুই শ বিঘা কৃষিজমি সেচহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর ফলে চলতি মৌসুমের আবাদ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী মানুষেরা।
চাষাবাদের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উৎপাদক আব্দুল মোত্তালেব জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে জমিতে পানির জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেচের এই চরম সংকটের কারণে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
আরেক চাষি মুনসুর যোগ করেন, ক্ষেতের পেছনে ইতোমধ্যেই কৃষকদের বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক সময়ে জমিতে পানির ব্যবস্থা করতে না পারলে অতীতের সেই সব খরচের কোনো ইতিবাচক সুফল বা লাভ ঘরে তুলতে পারবেন না তারা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের এই তালিকায় আরও যুক্ত রয়েছেন খয়বর, শফি, খোরশেদ, নূর মোহাম্মদ, আজবাহার ও মান্নানের মতো স্থানীয় ব্যক্তিরা। তাদের সবার পক্ষ থেকেই অচল হয়ে থাকা পাম্পটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কৃষকদের এই সমস্ত অভিযোগ ও ক্ষোভের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন মো. সেলিম উদ্দিন মণ্ডল। নিজের সাফাইয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পাম্পটির মালিকপক্ষ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কিছু ঝামেলা বা মতবিরোধ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
তবে কৃষকদের কোনো ধরনের ক্ষতি করার মানসে পাম্পটি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখেননি বলে দাবি করেন সেলিম উদ্দিন মণ্ডল। তার ভাষ্যমতে, বিদ্যুতের কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিজ জিম্মায় রাখার পেছনে তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু যৌক্তিক কারণ ছিল।
বিতর্কিত এই পরিস্থিতি নিরসনে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সুরাহা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী এই ব্যক্তি।
সমগ্র বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন কালাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ। তার দপ্তরে ইতিমধ্যে এসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ এসে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, মালিকপক্ষের নিজেদের মধ্যে যেকোনো ধরনের বিরোধ থাকতেই পারে। তবে সেই কোন্দলের জেরে সাধারণ কৃষকদের ফসলের কোনো ক্ষতি কোনোভাবেই বরদাশত বা সহ্য করা হবে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে ফয়সাল আহমেদ ঘোষণা দেন, ঘটনার অভিযোগটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে খুব শীঘ্রই যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা