
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত ৫ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস সেন্টারের পশ্চিম পার্শ্ববর্তী রাস্তায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলকালে এক অভাবনীয় ও ভীতিপ্রদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় বাদীর ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, যেখানে তিনি অন্যান্য সাধারণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান গ্রহণ করছিলেন।
দুপুর ঠিক ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা দুষ্কৃতকারীদের ছোঁড়া একটি আকস্মিক বুলেট অত্যন্ত সজোরে এসে সরাসরি আঘাত করে বাদীর শরীরে। গুলিটি তাঁর শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থান অর্থাৎ মেরুদণ্ডের ঠিক নিচের অংশে এবং কোমরের ঠিক ওপরের অংশে সরাসরি প্রবেশ করে মারাত্মক জখম করে।
এই ভয়াবহ আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই ভুক্তভোগী বাদী তীব্র ব্যথায় সড়কের ওপর সম্পূর্ণ সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চারপাশের পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে।
সেখানে উপস্থিত থাকা সাহসী ও সহানুভূতিশীল অন্যান্য আন্দোলনকারী এবং ছাত্ররা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে ওই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেন। প্রাথমিক সুব্যবস্থার পর তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে তাঁর উন্নত ও অধিকতর সুচিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁকে স্থানান্তরিত করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে, যা পিজি হাসপাতাল নামে সমধিক পরিচিত, সেখানে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও শারীরিক সুস্থতা লাভ করার পর বাদী নিজে বাদী হয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সেসময়ের একাধিক ক্ষমতাধর মন্ত্রী, দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে এই মামলার আসামি করেন।
এছাড়াও তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মীকেও এই মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে উত্তরা পশ্চিম থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি দায়ের করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা