
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
উপজেলা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ অবনতি ঘটার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাতে গোনা কয়েকটি ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া এই শিক্ষালয়গুলো নিয়মিতভাবে শোচনীয় মাত্রার ফল বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। যখন অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের আনন্দে মেতে ওঠে, তখন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের হার মোটেও সন্তোষজনক থাকে না। কোনো কোনো জায়গায় পাসের হার মাত্র পনেরো শতাংশের ঘরে আটকে থাকে, আবার কোথাও তা কুড়ি থেকে ত্রিশ কিংবা সর্বোচ্চ চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত সীমিত থাকে।
এ ধরনের উদ্বেগজনক দৃশ্যপট মাত্র কুড়ি-তিরিশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের অধিকাংশ সরকারি শিক্ষালয়ের ক্ষেত্রেই এটি সত্য। ফলে আলাপ-আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই করুণ দশা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের আক্ষেপ ও হতাশার কোনো অন্ত নেই।
দীর্ঘকাল ধরে সমাজের সব মহলে শিক্ষাব্যবস্থার মান অবনতির দিকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়মিতভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। এই পতনের পেছনে যে বহুবিধ কারণ সক্রিয় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
চলতি বছর উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একাধিক ধাপে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত অভিভাবকহীনতার মারাত্মক সংকট থেকে কিছুটা স্বস্তি লাভ করেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিভিন্ন বিষয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের কোনো লক্ষণ কি দেখা যাচ্ছে? এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?
শিক্ষালয়গুলো জাতীয়করণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে ২০১৬ সালে এবং সরকারি আদেশ বা গেজেট প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের আটই আগস্ট। এর মাঝে নানা ধরনের জটিলতা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে পরিশেষে কর্মরত শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২১ সাল থেকে।
অথচ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই প্রক্রিয়া এখনো সমাপ্তির মুখ দেখেনি। প্রায় আট থেকে দশ বছর দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিয়মিতকরণের এই সংবাদ যেকোনো শিক্ষক বা কর্মীর জন্যই নিঃসন্দেহে একটি আনন্দদায়ক ও আশার সঞ্চারক বার্তা।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন প্রভাষক ২০২১ সালে নিয়মিতকরণের আদেশ পাওয়ার পর ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে লিখেছিলেন, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগদান সম্পন্ন করেছেন এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কিন্তু গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে অত্যন্ত মন্থর গতিতে নিয়মিতকরণের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এখনো বহু প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন। তাদের এই অনিশ্চিত জীবনযাত্রা সত্যিই বড় কষ্টের।
সূত্র: আজকের পত্রিকা