
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
এই বিন্দু থেকেই মূলত জোরালো সমালোচনার সূত্রপাত ঘটেছে। দর্শকের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন যে, ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়েও কেন একজন নারীর মানসিক সুস্থতা অর্জন কিংবা জীবন পুনর্গঠনের কেবল একটিমাত্র পথ হিসেবে বিয়ে কিংবা কোনো পুরুষ রক্ষাকর্তার ওপর নির্ভরতাকে ফুটিয়ে তোলা হবে? কোনো রকম পুরুষের সাহায্য ছাড়াই তো ওই নারী অনায়াসে হার্ভার্ডে নিজের শিক্ষাজীবনে ফিরে গিয়ে শূন্য থেকে জীবনটি নতুনভাবে গুছিয়ে নিতে পারতেন।
সমালোচকদের অভিমত অনুযায়ী, এই ড্রামাটি তরুণ প্রজন্মের মেয়েদের মনে ‘পারফেক্ট ম্যান’ বা নিখুঁত পুরুষের একটি কাল্পনিক ও অবাস্তব ধারণার বীজ বুনছে। যদিও মায়ের প্রতি চরিত্রের পুরুষ আবু বকরের নিখাদ ও অন্ধ ভক্তি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী, তবুও মায়ের কল্যাণে নিজের সবকিছু উৎসর্গ করে দেওয়া একজন পুরুষ পরবর্তীতে তার নিজের স্ত্রীর নায্য অধিকার আদায় করার জন্য আদৌ লড়াই করতে সক্ষম হবেন কি না, সেই বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকেই যায়।
অন্যদিকে, গল্পের যারইয়াব চরিত্রটিও চরম স্বার্থপরতায় পরিপূর্ণ। নানা ধরনের মানসিক আঘাত বা ট্রমার দোহাই দিয়ে সে যেভাবে আবু বকরের পবিত্র আবেগ ও সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাকে স্পষ্ট ভাষায় প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই বলা চলে না।
নাটকটিতে যারইয়াব চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ব্যক্তিগতভাবে তিনিও এমনটিই দেখতে চেয়েছেন যাতে যারইয়াব হার্ভার্ডে নিজের ঠিকানায় ফিরে গিয়ে পুরোপুরি আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।
বিপরীতে, আবু বকরের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করা প্রবীণ শিল্পী সানিয়া সাঈদ বিবিসি উর্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলাভাবে বলেন, আমাদের এই সমাজে আজও নারীদের যেকোনো ধরনের জটিল সমস্যার অবসান ঘটানোর মোক্ষম উপায় হিসেবে কেবল বিয়ে দেওয়াকেই একমাত্র রাস্তা বলে গণ্য করা হয়ে থাকে।
সানিয়া সাঈদ আরও যোগ করেন যে, পাশাপাশি আমাদের সমাজ আজও প্রশ্নহীনভাবে সব হুকুম তামিলকারী অনুগত পুত্রসন্তান কামনা করে থাকে, যা আদতে কোনোভাবেই একটি স্বাস্থ্যকর মানসিকতার পরিচায়ক নয়। মূলত নাট্যকার উমেরা আহমেদ সমাজের এই গভীর প্রোথিত ভুল ধারণাগুলোকেই অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ছোটপর্দার মাধ্যমে সবার সামনে উন্মোচন করতে চেয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা