
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইউক্রেনের সহায়তায় জার্মানি ২০২৭ সালের জন্য ১১৬০ কোটি ইউরো বরাদ্দ রেখেছে এবং একই সঙ্গে নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কিয়েভের অন্যতম প্রধান মিত্র যুক্তরাজ্যও তাদের সামাজিক কল্যাণ খাতের ভাতা ইতোমধ্যে ছেঁটে ফেলেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ এবং কর্মক্ষমতাহীন ব্যক্তিদের জন্য চালু থাকা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট কর্মসূচির আওতায় নতুন আবেদনকারীদের স্বাস্থ্যভিত্তিক ভাতা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান কেমি ব্যাডেনক সামরিক খাতের ব্যয় নির্বাহের স্বার্থে সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ আরও কমানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন।
তিনি সেদিন মন্তব্য করেছিলেন যে, তাদের প্রতিরক্ষা খাতে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রের সব অর্থ সামাজিক কল্যাণের পেছনে ব্যয় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
যদিও ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত তাঁর এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
অন্যদিকে ফ্রান্সও রাষ্ট্রীয় খরচ কমানোর কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে এবং এর অংশ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন স্থগিত রাখার একটি প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে।
সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর ফলেই মূলত ফরাসি সরকার এই ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে, যার বিরুদ্ধে দেশটির বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সরকারের এসব ভুল নীতির ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে এবং সার্বিক জনসেবার মান নিম্নমুখী হচ্ছে।
এসব অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের জেরে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গোটা ইউরোপজুড়ে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বেঁধেছে যা পরবর্তীতে বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে নেমেছিলেন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ।
এছাড়াও আবাসনের ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিবাদে স্পেন এবং পর্তুগালের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী।
এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত অবনতির দিকে যাওয়ার প্রতিবাদে ইউরোপের অন্যতম দেশ ইতালিতেও তীব্র বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা