
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জাতিসংঘের একটি স্বাধীন কমিশন তাদের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে অত্যন্ত গুরুতর কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত তিন বছরের ব্যবধানে নির্দিষ্ট অঞ্চলে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে ইসরায়েলি বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে এবং এটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত চৌঠা অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী সময়সীমায় কেবল বিমান হামলার মাধ্যমেই আড়াই শতাধিক ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দীর্ঘ মেয়াদে এই সংখ্যাটি অত্যন্ত কম ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘটনার গভীর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও কিছু ঘটনা বিশেষভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষেরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন এবং তারা কোনো ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি করেননি। ক্ষতিগ্রস্তদের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল শিশুরা, যার মধ্যে একেবারে কচি বয়সের সদ্যোজাত একটি শিশুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তদন্ত দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা না দিয়েই শক্তিপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তুর মাথা ও দেহের ওপরের দিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে। কমিশনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হলো, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা জেনেশুনেই এসব মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
গত বছরের প্রথম মাস থেকে শুরু হওয়া বিশেষ সামরিক অভিযানকে ধ্বংসাত্মক কৌশলের বিস্তার বলে অভিহিত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিগত কয়েক দশকে দেখা যায়নি এমন নজিরবিহীন বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ তাদের বসতি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন বিদেশি অধিকারকর্মীরাও। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বেইতার নামক এলাকার কাছাকাছি স্থানে এক তুর্কি-আমেরিকান অধিকারকর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাটি সুপরিকল্পিত অপরাধের সমতুল্য বলে জানিয়েছে তদন্ত দল।
কারাগারের ভেতরে সংঘটিত নানা নিপীড়নের চিত্রও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। বন্দিদশায় শারীরিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট একটি কারাগারে এক বন্দির ওপর পৈশাচিক দলবদ্ধ নির্যাতনের বীভৎস তথ্যও রয়েছে।
পুরো অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎসের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের বয়ান, দৃশ্যমান ডিজিটাল প্রমাণপত্র, স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি এবং ক্ষয়ক্ষতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট দুটি পক্ষের কাছেই আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সাড়া দিলেও বিপরীত দিক থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এমনকি তদন্ত দলের সদস্যদের সরেজমিন পরিদর্শনের অনুমতি দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আজকের পত্রিকা