
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জনগণের ন্যায্য দাবিকে অগ্রাহ্য করে ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জেলার প্রান্তিক অঞ্চলে স্থানান্তরিত করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে নিজের সুবিধাজনক এলাকায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
মাহবুব মোর্শেদ টিপু আল্টিমেটাম দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, আগামী সোমবারের মধ্যে শহরসংলগ্ন পূর্বনির্ধারিত জায়গাতেই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় স্থানীয় জনসাধারণকে একত্রিত করে আরও জোরালো ও বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন দেখা দিলে প্রধান সড়ক ও পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
উক্ত প্রতিবাদ সভা সমাপ্ত হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সরকারপ্রধানের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, বিগত ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে এই জনপদে একটি আধুনিক কৃষি প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। ওই বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কমিশনকে একটি প্রাথমিক আইন প্রণয়ন করার নির্দেশনা দিয়ে পত্র পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে একাধিক দপ্তরের পরামর্শ গ্রহণ করে উক্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইন তৈরির কার্যক্রম নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়। অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রস্তাবিত আইনটির অনুমোদন দেওয়া হয় এবং একই বছরের ১২ জুন মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে ওই বছরের ১৩ নভেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যার প্রারম্ভিক নামকরণ করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট জেলা ও প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে।
পরবর্তী সময়ে তৎকালীন তিনজন সংসদ সদস্যের সক্রিয় উদ্যোগে এবং সর্বমহলের মতামতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা সদরের সন্নিকটে মহাসড়কের পাশে মূল ক্যাম্পাসের স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম থেকে বিশেষ অংশ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বর্তমান নামে রূপান্তর করা হয়। এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা শাখা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখরকে এই প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
গত ১৬ অক্টোবর নবনিযুক্ত উপাচার্য এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে মূল শহর থেকে প্রায় আটাশ কিলোমিটার দূরে ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় নির্ধারিত জমি সরেজমিনে দেখতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ। উক্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সেখানে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ঘোষণা প্রদান করেন।
সাংবাদিকদের কৌতূহলী প্রশ্নের জবাবে হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তুলনামূলক কম খরচে জমি প্রাপ্তির সুবিধা থাকায় পূর্ব ডামুড্যা অঞ্চলে ক্যাম্পাস নির্মাণের এই স্থানটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই উচ্চশিক্ষালয়ের স্থান নির্বাচন নিয়ে অনলাইন মাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা শহরের কাছাকাছি নির্ধারিত জায়গায় ক্যাম্পাস গড়ার সুনির্দিষ্ট দাবিতে স্থানীয় জনগণ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা