
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানের সুরের মূর্ছনায় মুখরিত পরিবেশে গতকাল সকালে নির্দিষ্ট একটি বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছায় নরওয়ের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় স্থানীয় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়।
অভ্যর্থনা পর্বের অংশ হিসেবে সাঁওতালদের প্রাচীন নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টির নিয়ম মেনে আগত অতিথিদের পা ধুয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এই ব্যতিক্রমী ও আন্তরিক আতিথেয়তায় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা গভীরভাবে অভিভূত হন।
স্বাগত পর্ব শেষে প্রতিনিধিদলের সম্মানিত সদস্যরা সরাসরি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা বেঞ্চে বসে নিবিড় মনোযোগের সঙ্গে শিশুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় পরিচালিত পাঠদান কার্যক্রম সশরীরে অবলোকন করেন।
শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শনের পাশাপাশি তারা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলেন। এ সময় অতিথিরা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর শোনেন।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষালাভ করছে—এমন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ সরাসরি দেখে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন শেষে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন যে, যেকোনো জাতির প্রধানতম পরিচয় এবং সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার নিজস্ব ভাষা।
তারা আরও মন্তব্য করেন যে, কোনো কারণে মাতৃভাষা হারিয়ে গেলে ক্রমান্বয়ে সেই নির্দিষ্ট জাতির নিজস্ব অস্তিত্বও গভীর সংকটের মুখে পতিত হতে পারে।
সাঁওতাল শিশুরা নিজেদের মায়ের বুলিতে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে অতিথিরা জানান যে, এটি তাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ত্যাগের ঠিক আগে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষক এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি দলীয় ছবিতে অংশগ্রহণ করেন নরওয়ে থেকে আসা প্রতিনিধিদলের সকল সদস্য।
সূত্র: আজকের পত্রিকা