
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পঁচিশটি ভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে দুইশ সাতচল্লিশ কোটি পঁচাশি লাখ টাকারও অধিক জমা রাখা হয়েছে এবং একশ একানব্বই কোটি একবিংশ লাখ টাকার বেশি সেখানে থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির হিসাবগুলোতে মোট আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ চারশ উনচল্লিশ কোটি টাকার অধিক অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, ছত্রিশ লাখ বায়ান্ন হাজার সাতচল্লিশ টাকা কর হিসেবে পরিশোধ না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের আর্থিক ক্ষতি সাধনের গুরুতর একটি অভিযোগও এখানে যুক্ত রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সিআরআইকে বিশেষ কর সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অসদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে বিভিন্ন ফান্ড বা অনুদান সংগ্রহ করা, প্রতিষ্ঠানটির জন্য বিশেষ কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা এবং তহবিল তছরুপের অভিযোগগুলোও বর্তমানে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনগত দিক থেকে বিচার করলে, এই মামলাটি দণ্ডবিধির চারশ নয় ও একশ নয় ধারা মোতাবেক, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের পাঁচের দুই ধারা অনুযায়ী এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর আওতায় রুজু করা হয়েছে।
অনুসন্ধান কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে, সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বর ৫৭৫৯৪১৯১৬৩০৪-এর বিপরীতে রাজধানী ঢাকার কর অঞ্চল-ছয়ের সার্কেল-একশ ষোলোতে সংরক্ষিত আয়কর ফাইলটির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত দাপ্তরিক রেকর্ডপত্র জব্দ করার আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিচারিক আদালত সংশ্লিষ্ট ওই আয়কর নথিগুলো অবিলম্বে জব্দের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা