
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্তন ক্যানসারের বিস্তার রোধ ও এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষ আলোচনা সভা এবং স্ক্রিনিং কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে। মূল আলোচনা পর্বে ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে স্তন ক্যানসারের নানা দিক তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে এই মরণব্যাধি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব এবং সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং সম্পন্ন করলে চিকিৎসার সফলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস।
সচেতনতামূলক এই আয়োজনের একটি বিশেষ অংশ হিসেবে নারীদের জন্য স্ক্রিনিং কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের নিজস্ব মেডিকেল সেন্টারে এই বিশেষ স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
উপস্থিত নারী অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এই সেবা প্রদান করা হয়। স্ক্রিনিংয়ে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপহার ও আপ্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
এদিন অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে একটি করে কলম ও নোটপ্যাড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের জন্য হালকা নাশতার সুব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছিল আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জানান ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোসা. নাজমা পারভীন।
তাঁর সঙ্গে সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিনোভিয়া ফার্মা পিএলসি-এর অনকোলজি অ্যান্ড ভ্যাকসিন বিভাগের এজিএম লাকি সিংহ।
বক্তব্যের সময় তাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্মানিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সিনোভিয়া ফার্মা পিএলসি-এর প্রতিনিধিত্বকারী দলের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
এই আয়োজনে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং পুরো আয়োজক দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সবার অবদানের কথা স্মরণ করে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ফার্মেসি বিভাগ নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রসারে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই বিভাগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়, ওষুধশিল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের এই যৌথ প্রয়াস জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা