
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলই অবশ্য মানবজাতি নিয়ে হতাশাজনক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেনি। ক্লদ ওপাস ৫.৫ মডেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মানুষ নিজেদের যতটা মনে করে আদতে তার চেয়ে ঢের বেশি দয়ালু। মানুষের সহজাত ও প্রকৃত ত্রুটিবিচ্যুতির তুলনায় নিজেদের সম্পর্কে মানুষের পারস্পরিক নেতিবাচক ধারণাগুলো অনেক সময় বেশি ধ্বংসাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে।
মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতি সম্পর্কে একই ধরনের প্রশ্ন রাখা হয়েছিল ছয়টি ভিন্ন ইমেজ-জেনারেশন বা ছবি প্রস্তুতকারী মডেলের কাছেও। মডেলকমপেয়ারের মূল্যায়ন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই মডেলগুলোর তৈরি করা ১২টি ছবির মধ্যে ঠিক ১০টিতেই মানবজাতিকে এমন একদল মুঠোফোনে আসক্ত ভোক্তা হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যারা মূলত পৃথিবীর তাবৎ সম্পদ নিঃশেষ করে চলেছে। অবশ্য বাকি দুটি ছবিতে কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো বহু মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে চাইছেন না বলে জোরালো সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া একটি বক্তৃতায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, এআই প্রযুক্তির কারণে সমগ্র মানবজাতির ধ্বংসের ঝুঁকিটাকে কোনোভাবেই একেবারে উড়িয়ে দেওয়া চলে না। তাঁর সুনির্দিষ্ট মতে, এই প্রযুক্তি অদূর ভবিষ্যতে সম্মিলিতভাবে মানুষের নিজস্ব সক্ষমতাকেও বহুগুণ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
একই সুরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জগতের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ ও নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টনও গুরুতর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে জানিয়েছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই যন্ত্রগুলো মানুষের তুলনায় অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এগুলো মানব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো ভীতিজনক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞানী হিন্টনের নিজস্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী, মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এমন উন্নত প্রযুক্তি সৃষ্টির নজির মানব ইতিহাসে এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে মানুষের সবচাইতে বড় মারাত্মক ভুল হবে, অধিকতর উন্নত এআই প্রযুক্তির সঙ্গে মানবজাতি কীভাবে শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণার কাজে পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ বিনিয়োগ না করা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা