
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
খুলনা অঞ্চলে গত নির্দিষ্ট দিনে মাত্র ৫০০ সিলিন্ডার গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই সীমিত চালানের বিপরীতে তালিকাভুক্ত ডিলারদের প্রত্যেকে সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ২৫টি করে সিলিন্ডার হাতে পান।
বাজারে ছাড়া সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারগুলো কালোবাজারির কবলে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই অবৈধ লেনদেনের বিষয়টি তুলে ধরেছে।
চিঠিতে এই সংকট দূর করার উপায় হিসেবে সরকারি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে বেসরকারি বাজারের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার একটি বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, উৎপাদনের প্রকৃত খরচ হিসাব না করে বরং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যকেই যেন মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে এই ধরনের পদক্ষেপে বিশেষজ্ঞদের মনে বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে সাধারণ ও প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষের সুলভ মূল্যে রান্নার গ্যাস পাওয়ার যে সামান্য সুযোগটুকু এখনও টিকে আছে, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিইআরসির কাছে জমা দেওয়া আবেদনে এলপি গ্যাস কোম্পানি ব্যাখ্যা করেছে যে, বেসরকারি খাতের সিলিন্ডারের দামের তুলনায় বিপিসির সিলিন্ডারের মূল্য বেশ কম। এই দামের ব্যবধানের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র সরকারি গ্যাস বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে ফেলছে, যা ক্রস ফিলিং নামে পরিচিত।
পরবর্তীতে এই গ্যাস নির্ধারিত বা সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক চড়া দামে বাজারে বিক্রি করা হয়। এই কারসাজির কারণেই প্রান্তিক এবং সাধারণ গ্রাহকেরা নির্ধারিত কম মূল্যে সরকারি এলপি গ্যাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বর্তমান এই হতাশাজনক পরিস্থিতি তুলে ধরে এলপি গ্যাস কোম্পানির পক্ষ থেকে নতুন একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। যেহেতু দেশের একমাত্র সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাস ৩৫ ও ৬৫ অনুপাতে মিশ্রিত করে এলপিজি উৎপাদন করা হয়, তাই সংস্থাটির যুক্তি রয়েছে।
কোম্পানির মতে, কেবল বেসরকারি খাত নয়, বরং সরকারি এলপিজির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এই দুটি প্রয়োজনীয় উপাদানের সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি মূল্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রতি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা উচিত।
সূত্র: আজকের পত্রিকা