
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এর ফলে একদিকে যেমন সেবাগ্রহীতাদের আর্থিক ক্ষতি ঘটছে, তেমনি অন্যদিকে চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
প্রয়োজনীয় ও জরুরি সরকারি সেবা পাওয়ার কোনো বিকল্প পথ না থাকায় অনেক মানুষ বাধ্য হয়েই এই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করছেন। তবে পরবর্তীতে নিজেদের নানা ধরনের হয়রানি বা বিপদের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশ গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সার্ভেয়ার আবু সোয়েব দাবি করেন, তিনি সপ্তাহে মাত্র এক থেকে দুই দিন বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে উপস্থিত থাকেন। সহকারী কমিশনার ভূমি যে সমস্ত কাগজপত্র বাতিল করেন কিংবা যেসব সিদ্ধান্ত প্রদান করেন, মূলত সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করাই তাঁর কাজ। এর বাইরে দাপ্তরিক অন্য কোনো বিষয়ে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
সার্ভেয়ার আবু সোয়েব আরও যোগ করেন, যদি কেউ তাঁর নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কোনো সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে থাকে, তবে সেই দায়ভার সম্পূর্ণ ওই ব্যক্তির নিজের এবং সেটি দেখার দায়িত্ব তাঁর নয়। ঘুষ বা অনিয়মের এই অভিযোগের সঙ্গে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন।
এদিকে ঘুষ গ্রহণের সমস্ত অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ। তিনি নিজের সাফাই গেয়ে জানান, তাদের পুরো কার্যালয়ের ভেতরে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা বা ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন চালু রয়েছে। এই ধরনের কড়া নজরদারির কারণে তাদের পক্ষে কোনোভাবেই ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনার বিষয়ে আরেক অভিযুক্ত ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবুর বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর নির্দিষ্ট কার্যালয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি এবং তাঁর অফিসকক্ষটি শূন্য অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়।
সারs সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কিছু ছবি এবং ভিডিও তাঁর নজরে এসেছে। তিনি ইতোমধ্যে সেগুলো দেখেছেন এবং পুরো বিষয়টি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবিহিত করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম আরও স্পষ্ট করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতিবাজ কোনো কর্মচারীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা