
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সবুজ গাছের ছায়ায় ঘেরা সরু পথ পেরিয়ে যখন আমরা শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে কান্তজিউ মন্দিরের চত্বরে পা রাখলাম, তখন মনটা এক অদ্ভুত ও স্নিগ্ধ শান্তিতে ভরে গেল।
কান্তনগর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে চলা একটি নদী এবং প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ, সাঁওতাল সম্প্রদায় ও শহর থেকে আসা ভ্রমণকারীদের মেলবন্ধনে এই অঞ্চলে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী আবহ তৈরি হয়েছে।
সেখানেই আমাদের আলাপ হয় ওই এলাকার স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মলয় সাহার সঙ্গে, যিনি এই প্রাচীন স্থাপনার ঐতিহাসিক নানা দিক নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন।
মলয় সাহা জানান, ১৭০৪ সালে তৎকালীন মহারাজ প্রাণনাথ রায় এই ঐতিহাসিক মন্দিরটির নির্মাণকাজের শুভ সূচনা করেছিলেন, যদিও এর সমাপ্তি ঘটে তাঁর পোষ্যপুত্র রামনাথ রায়ের মাধ্যমে।
দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছর ধরে নিয়মিত শ্রম ও প্রচেষ্টার পর ১৭৫২ সালে এই চমৎকার মন্দিরটির নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, মূল নির্মাণের পর ১৭৫২ সালেই মন্দিরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসর্গ করা হয়েছিল এবং সে সময় এর সুউচ্চ চূড়াটির পরিমাপ ছিল ৭০ ফুট।
কিন্তু প্রকৃতির নির্মম আচরণে ১৮৯৭ সালে সংঘটিত এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের ফলে মন্দিরটির ঐতিহ্যবাহী চূড়াগুলো ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে মহারাজা গিরিজানাথ ক্ষতিগ্রস্ত এই স্থাপত্যটির ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেন এবং এর হারানো রূপ ফিরিয়ে আনেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা