
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক অবৈধ অভিবাসী হিসেবে সন্দেহভাজনদের আটক ও দেশত্যাগে বাধ্য করার কার্যক্রম বর্তমানে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ব্যাপক অভিযানের ফলে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নকারী সরকারি সংস্থাগুলোর সামগ্রিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।
চলমান বছরে দেশটিতে পরিচালিত অভিবাসনবিরোধী অভিযানগুলোতে ঘনঘন সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই সব বিশেষ অভিযানে অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই সংস্থার কর্মকর্তারা অন্তত চব্বিশটিরও বেশি ঘটনায় সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছেন এবং এতে ন্যূনতম নয়জন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে।
নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় চলতি বছরে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আইসিই কর্মীদের গুলিতে প্রাণ হারানো রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। তাঁদের কাউকেই নির্দিষ্ট কোনো গ্রেপ্তারের লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, তবুও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তাঁদের জীবন প্রদীপ নিভে যায়।
আইসিই সংস্থার কর্মীরা প্রায়শই মুখ ঢেকে এবং রোদচশমা পরে গোপনীয়তার সঙ্গে এসব অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। আইনি বিধান অনুযায়ী নিজেদের সঠিক পরিচয় উন্মোচন করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও অভিবাসন কর্মকর্তারা খুবই বিরল ক্ষেত্রে তা মেনে চলেন।
এই নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় দশ লাখ মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে সত্তর শতাংশের বেশির মানুষের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড বা তথ্য ছিল না।
সূত্র: আজকের পত্রিকা