
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিচারালয়গুলোতে বিচারকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর কঠোর গুরুত্ব আরোপ করেছেন আইনমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বেলা এগারোটার সময় এজলাসে উপস্থিত হয়ে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে আদালত ত্যাগ করার অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিচারকার্যে গতিশীলতা আনতে এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে এই ধরনের কর্মসংস্কৃতি পরিবর্তনের বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ঝুড়ি ঝুড়ি মামলার পাহাড় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান যে, বিচারপ্রার্থীদের এই বিশাল জট সামাল দিতে গিয়ে বিচারকদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত এবং অমানবিক মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বিচারালয়ের এই বহুমুখী চাপ হ্রাসের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিচারালয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিচারপ্রক্রিয়া সহজ করার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ই-বেইল বন্ড সেবা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার শুনানিতে সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামির হাজিরা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ এখন সরাসরি পাচ্ছে।
প্রযুক্তির এই ইতিবাচক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার আরও উন্নত পদ্ধতি উদ্ভাবনের কথা গভীরভাবে বিবেচনা করছে বলে জানান মন্ত্রী। বিচার ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করে তুলতে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নতুন কৌশল প্রণয়নের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি আরও দ্রুত ও সহজলভ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এদিকে রাজধানীর একটি বিশেষ পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবীর সশরীরে অংশ নেন। এছাড়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং রাজধানীতে কর্মরত বিভিন্ন আদালতের বিচারকবৃন্দ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে সমৃদ্ধ করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা