
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
অর্থায়ন এবং আর্থিক লেনদেনের ধরন খতিয়ে দেখে বিশেষজ্ঞ ত্রেহুব মত প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের অভিযানের পেছনে সক্রিয় নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা, তাদের নির্দেশনার উৎস খুঁজে বের করা, রসদ ও অর্থের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমানে মস্কোর সামরিক অবস্থা সুবিধাজনক নয়। পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক এলাকা দখলের উদ্দেশ্যে চালানো রুশ বাহিনীর মূল সামরিক অভিযান ইউক্রেনের দুটি পাল্টা আক্রমণের মুখে ভোঁতা হয়ে পড়েছে, যার ফলে চলতি বছরে কার্যত কোনো নতুন ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি মস্কো।
গত আগস্ট মাসে জার্মানির লিপজিগ এবং হালে বিমানবন্দর এলাকায় একটি কার্গো বিমানে অন্তর্ঘাতমূলক হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইউরোপীয় অঞ্চলে রাশিয়ার সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে উৎকণ্ঠা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ইউরোপীয় কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে ওই অন্তর্ঘাতের ঘটনাটি রাশিয়ার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছিল।
এর পর গত সেপ্টেম্বরে চেক প্রজাতন্ত্রের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মিখাল কৌদেলকা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে, কোনো নাটো জোটভুক্ত দেশের সীমানায় সামরিক আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে মস্কো। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই ধরনের সম্ভাব্য হামলা কয়েক বছরের পরিবর্তে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ঘটে যেতে পারে।
চেক গোয়েন্দা প্রধানের এই সতর্কবার্তার মাত্র কয়েক দিন পরেই রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে, যেসব ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে, তারা মস্কোর নির্ধারিত বৈধ সামরিক লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ ত্রেহুব আরও জানান যে, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কো যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করছে, তা তৈরি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদানকারী ইউরোপীয় কাঠামোগুলোর সঙ্গে কোনো তফাত করে দেখে না রাশিয়া।
তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্রেমলিনের দৃষ্টিতে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র উৎপাদনকারী যেকোনো কারখানা, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত লজিস্টিক হাব কিংবা জরুরি প্রযুক্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান—সবকিছুই নাশকতার সম্ভাব্য নিশানা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চলتی মাসেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচটি ভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে জানিয়েছেন যে, ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের হত্যা করা এবং তাদের সরবরাহ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাশিয়া।
এর আগে জার্মান দৈনিক ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগেমাইনে জাইটুং প্রকাশিত এক সংবাদে প্রকাশ পায় যে, মিউনিখ শহরের ডিফেন্স ইক্যুইপমেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোডে অ্যান্ড শোয়ার্জ এবং হেলসিংয়ের অফিস প্রাঙ্গণে আগুন লাগানোর উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক ডিভাইস বা দাহ্য যন্ত্র স্থাপন করেছিল রুশ এজেন্টরা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা