
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রতিবেশী বন্দরগুলোর সঙ্গে অসম লড়াইয়ের মুখে পড়েছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর। এমন কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা।
তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, কলকাতার ভৌগোলিক দূরত্ব খুবই কম হওয়া সত্ত্বেও এই বন্দরটি তার যথাযথ সুবিধা অর্জন করতে পারছে না।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতির হওয়ার মতো নানা কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবু মুসা।
অন্যদিকে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভোমরা কাস্টমস হাউস সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন এর সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান।
চলতি পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে মিজানুর রহমান জানান, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ১ হাজার ১শ ১৪ কোটি টাকা।
তিনি আরও যোগ করেন যে, চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ৩শ ৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম তিন মাসেই ৪শ ১২ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।
এই বন্দর দিয়ে সাধারণত কী ধরনের পণ্য আনা হয়, তা উল্লেখ করে কাস্টমস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান যে, এখান দিয়ে মূলত মসলা, শাকসবজি, চাল, ডাল, গম এবং বিভিন্ন কারখানার কাঁচামাল আমদানি করা হয়ে থাকে।
পাশাপাশি তিনি জানান, পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় গত তিন মাসে রাজস্ব আদায়ে ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
এদিকে বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোমরা স্থলবন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির জানান, এই বন্দরটির পরিকাঠামো বা অবকাঠামো উন্নত করতে ১ হাজার ১শ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মেগা প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উপপরিচালক মামুন কবির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হলে বন্দরের অবকাঠামোতে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটবে।
পরিশেষে তিনি জানান, পরিকাঠামোর আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এই বন্দরের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনায় আরও বেশি উদগ্রীব ও আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা