
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা ও তাঁর কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন গণমাধ্যমকে এই মর্মে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়েছেন।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত বুধবার এশার নামাজের ওয়াক্তের কাছাকাছি সময়ে গোলাপ তাঁর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাসা থেকে শ্বশুরবাড়ি খাসকান্দির পানে রওনা দিয়েছিলেন।
যাত্রাপথে রামকৃষ্ণদী বাজারে যাত্রাবিরতি করে তাঁরা দুজন একসঙ্গে চা পান করেন। এরপর সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে তাঁরা যখন পাথরঘাটা গ্রামে এসে পৌঁছান, তখন জনৈক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাঁদের গতিরোধ করে।
পথিমধ্যে আক্রমণকারীরা তাঁদের ওপর বেধড়ক মারধর চালায় এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক তাঁর মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে গোলাপ সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে তাঁর নিজের বাবার বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন।
পরবর্তীতে গোলাপের বাবা তাঁকে দ্রুত রাজধানী ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে মারধরের পাশাপাশি তাঁকে জোরপূর্বক বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
হাসপাতালের সংরক্ষিত চিকিৎসা নথিপত্র পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, সেখানে রোগীর শরীরে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি বিষক্রিয়ার সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল।
ওই হাসপাতালে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি পেটে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে পরামর্শ দিলেও, ভোরের দিকে তিনি কাউকে না জানিয়ে সেখান থেকে চলে যান এবং আবদুল্লাহপুরের স্বদেশ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন।
পরবর্তীতে স্বদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গোলাপ পুলিশকে নতুন করে জানান যে, সোহরাব নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাঁদের বাবা ও মেয়ের ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
গোলাপের এই জবানবন্দি ও সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ইতোমধ্যে সোহরাবকে আটক করেছে এবং তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা কামরান হোসেন আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ও সময়ে অভিযুক্ত সোহরাব নিজে কোথায় অবস্থান করছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা