
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চালানো এক বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। অভিযানে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করায় মোট চারটি হাসপাতাল ও ফার্মেসিকে আর্থিক দণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসালয় ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়টি নজরে আসে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বের লাইসেন্স নবায়ন করার ক্ষেত্রেও চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষের তদারকিতে হাসপাতালগুলোর ভেতরে রোগীদের কেবিনগুলোর পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধময় অবস্থায় পাওয়া যায়। একইসঙ্গে প্যাথলজি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ল্যাবরেটরিতে বাধ্যতামূলক শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি অনুপস্থিত ছিল এবং অস্ত্রোপচার কক্ষের জরুরি বাতিটিও নষ্ট অবস্থায় পড়ে ছিল।
অন্যদিকে, এলাকার বিভিন্ন ওষুধের দোকানেও অনিয়মের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ফার্মেসিগুলোতে চিকিৎসকদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্যাম্পল ওষুধ প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হচ্ছিল এবং আইন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয় করার জন্য যে রেজিস্টার বা হিসাব খাতা সংরক্ষণ করার কথা, তাও পাওয়া যায়নি।
অভিযানের সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে মুনমুন পাল গণমাধ্যমকে জানান যে, এই সমস্ত অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে মোট চারজন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বায়ান্ন ধারা এবং ওষুধ ও কসমেটিক আইন, ২০২৩-এর চল্লিশের গ উপধারা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করা হয়।
আইনের এসব ধারার লংঘন করায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া পক্ষগুলোকে সর্বমোট বাইশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা