
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রথমবার ম্যাকবেথ নাটকে অভিনয় করেই নিজের অভিনয়জীবনে দারুণ সব সমালোচকের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বরেণ্য তারকা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। রূপার্ট গুল্ডের নির্দেশনায় এই মঞ্চনাটকটির প্রদর্শনী আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালের মে মাসে, যার সূচনার স্থান ছিল ইংল্যান্ডের চিচেস্টার ফেস্টিভ্যাল থিয়েটার। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের গণ্ডি পেরিয়ে নাটকটি স্থান পায় লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েস্ট এন্ডের মঞ্চে। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন একাডেমি অব মিউজিকে সফলভাবে প্রদর্শিত হওয়ার পর, ২০০৮ সালে নাটকটি স্থানান্তরিত হয় ব্রডওয়েতে।
ম্যাকবেথ নাটকে এই অনন্য সাধারণ অভিনয়ের সুবাদেই প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একমাত্র টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন অর্জনে সমর্থ হন। তাঁর অসাধারণ অভিনয়শৈলী দেখে দ্য টাইমস অব লন্ডন সেসময় লিখেছিল যে, তাঁর ফুটিয়ে তোলা ম্যাকবেথ চরিত্রটি ছিল দুর্বলতা, তীব্র আকাঙ্ক্ষা, আত্মম্ভরিতা এবং বিষণ্ন এক রসবোধের চমৎকার ও মুগ্ধকর মিশ্রণ। এছাড়া দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ তাঁর এই অভিনয়কে বর্ণনা করেছিল একেবারে নিখাদ ও সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ একটি অভিনয় হিসেবে। অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তাদের পর্যালোচনায় লিখেছিল যে, এই নাটকটি ছিল দর্শকদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি অবশ্যকীয় ও দেখার মতো প্রযোজনা।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কিংবদন্তি অভিনেতা তাঁর দীর্ঘ অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সে সময় জানিয়েছিলেন যে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে তিনি কেবল এই ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিলেন। অভিনেতা হিসেবে নিজের স্মৃতির কথাচারণ করে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে তাঁর বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ বছর, তখন তিনি প্রথম নাটকটি আয়ত্ত করেছিলেন।
সে বয়সে নাটকের কেবল সংলাপগুলো তাঁর কাছে এতটাই অসাধারণ এবং জাদুকরী মনে হয়েছিল যে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমস্ত স্বগতোক্তিগুলো মুখস্থ করে ফেলেছিলেন। সেই কৈশোরে মুখস্থ করা লাইনগুলো তাঁর মনের ভেতরে চিরতরে গেঁথে গিয়েছিল, যার ফলে পরিণত বয়সে এসে নাটকের ওই বিশেষ অংশগুলো তাঁর আর নতুন করে শিখতে হয়নি। বিষয়টিকে তিনি নিজের জন্য একটি মস্ত বড় আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে বর্তমানে বয়সের ভারে নতুন করে সংলাপ মুখস্থ করাটাই এই পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা